বর্তমানের তরুণদের মাঝে বহুল আলোচিত পেশা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং হলো ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে অন্যের কাজ করে দিয়ে টাকা আয় করা। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আজকের তরুণরা শুধু মাত্র ইন্টারনেট জ্ঞান ও আইটি দক্ষতা দিয়ে আয় করে নিচ্ছে ডলার। মাসে শত থেকে হাজার ডলার কামিয়ে স্বনির্ভর হওয়া যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২৬ সম্পূর্ণ ফ্রি (দৈনিক ৫০০/- ভাতা) এর মাধ্যমে। ইতিপূর্বে ২০২৩ এর তথ্যও আমরা একই আর্টিকেলে প্রকাশ করেছি। চলুন তবে শুরু করা যাক।
কিন্তু কোথায় শিখবেন ফ্রিল্যান্সিং? কোন কোর্সটি আপনার জন্যে সময়োপযোগী? তা জানতে আমাদের আজকের এই লেখনী।
সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২৬
ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে আপনি কোন বিষয়টি নিয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান সে ব্যাপারে জেনে রাখা ভালো। বর্তমানের প্রচলিত সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২৬ রয়েছে এসিও মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইমেইল মার্কেটিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন, ওয়ার্ড প্রেস সহ আরো কিছু কোর্স। আপনি যে কোন একটি বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করতে পারলে শুধু তা দিয়েই গড়তে পারেন ক্যারিয়ার। তাই আগে সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কোনটি করবেন মনস্থির করুন, ঠিক করুন আপনার আগ্রহটা কোথায় এবং কোন বিষয়টা আপনি ভালো ভাবে রপ্ত করতে চান।
এবং সে অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি কোর্সে ভর্তি হোন। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার আইসিটি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে তাই এখন সরকারি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং শেখার রয়েছে অবাধ সুযোগ।
কোন কোর্সটি সময়োপযোগী হবে
বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব সাইট ডিজাইন, এসইও মার্কেটিং খুবই কার্যকরী ও সময়োপযোগী সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২৬ সালে এসে। কারণ এক্ষেত্রে বেশ কিছু সেক্টরে এক সাথে কাজ করা সম্ভব। বিশেষ করে এসইও মার্কেটিং শেখা থাকলে কিছু কিছু কোডিং এবং ওয়েব সাইট সম্পর্কেও শেখা থাকবে। আবার গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে আপনার বেশ দক্ষতা থাকলে বসে থাকতে হবে না আপনাকে। অনলাইন মার্কেট প্লেইস ফাইভারের মত সাইট গুলোতে খুব সহজেই ক্লায়েন্ট খুঁজে নিতে পারবেন আপনি। তাই কোন কোর্সটি আপনার পছন্দ সে অনুযায়ী শুরু করে দিন।
সরকারি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোথায় করবেন
বাংলাদেশ সরকার আইটিতে দিচ্ছে ব্যাপক বিনিয়োগ তার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স গুলো চালু করা হয়েছে বিভিন্ন নামে। বর্তমানে অনলাইনেও শেখা যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।
লার্নিং এন্ড আর্নিং সরকারি প্রজেক্ট
সরকারি অর্থায়নে “লার্নিং এন্ড আর্নিং” (LEDP) প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের যেকোন জেলা থেকে অনলাইনে এই কোর্সটি করা যাচ্ছে। এখানে আছে :
- গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
- ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিং
- ডিজিটাল মার্কেটিং।
এই কোর্সে রেজিষ্ট্রেশন করতে নিম্নের লিংকে প্রবেশ করুনঃ
https://ledp.ictd.gov.bd/registration
লার্নিং এন্ড আর্নিং ভর্তি হতে যা প্রয়োজন হবে
NID/জন্মনিবন্ধনের হুবহু তথ্য, পাসর্পোট সাইজের ছবি এবং png ফরমেটে ২ এম্বি এর ছোট সিগনেচার। এছাড়া এই কোর্সে ভর্তি হতে নূন্যতম এইচ এস সি পাস হতে হবে৷ নিজের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ সহ মোবাইলফোন।
SEIP সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২৬
Skill for Employment Investment Program এ ভর্তি হয়ে ফ্রিতে শেখা যাবে ফ্রিল্যান্সিং । অনলাইনে আপনি সার্চ করলেই তাদের ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন। এবং আপনার নিকটস্থ সরকারি পলিটেকনিকে SEIP এর প্রশিক্ষণ বিষায়ক বিজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিবেন।
SEIP এ ভর্তি হতে যা লাগবে
এইচ এস সি ও এস এস সি সার্টিফিকেট এর ফটো কপি,এই কোর্সে ভর্তি হতে অবশ্যই এন আইডি লাগবে। এছাড়া চেয়ারম্যান বা কমিশনার কর্তৃক আয় সনদ।
হার পাওয়ার প্রকল্প
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় চার হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে, নারীদের স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদ্যোক্তা হিসাবে টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘হার পাওয়ার প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে।
আইসিটি বিভাগ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি বিভাগের অধীনে ৪৪ টি জেলার ১৩০টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আওতায় ‘হার পাওয়ার (প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন)’ প্রকল্পের মাধ্যমে ০৫ (পাঁচ) মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
- IT Service Provider (ISP)
- Graphics Design (GD)
- Web Development (WD)
- Digital Marketing (DM)
- Women E-commerce Professional (WEP)
- Women Call Center Agent (CCA)
উপরোক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে আগ্রহী নারীদের বিস্তারিত জানতে বা রেজিস্ট্রেশন করতে নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করতে হবে: http://herpower.gov.bd/
শেষকথা :- আপনি যে কোর্সেই যান না কেনো চেষ্টা করবেন তার খুঁটিনাটি খেয়াল করে শিখতে। এর দ্বারা আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার । হতে পারেন দেশের বৈদেশিক আয়ের মূল্যবান উৎস এবং গড়তে পারেন নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আশাকরি আজকের আর্টিকেলে সরকারি সহায়তায় ফ্রিল্যান্সিং বিনামূল্যে কিভাবে করবেন তা ধারণা পেয়েছেন। একই আর্টিকেলে গত ২০২৫ এর তথ্য ও আমরা প্রদান করেছিলাম। এ সম্পর্কিত আর কোনো তথ্য জানতে ইচ্ছুক হলে কমেন্ট করে জানাবেন।
আমাদের এ সংক্রান্ত অন্যান্য ব্লগ সমূহ:


