প্রযুক্তি

ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় ২০২২ (ভিডিও সহ)

হ্যালো ডিয়ার! আপনাকে স্বাগতম জানাই আজকের ব্লগে। আপনি যদি অনুসন্ধান করে থাকেন আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এটা ছাড়া ও আরও জানতে পারবেন কি কেন ল্যাপটপে ও কম্পিউটারে ভাইরাস (Virus) আক্রমণ করে থাকছে ভিডিও সহ। 

পোষ্টটি ধৈর্য্যসহকারে পড়ার জন্য বিনীত রিকুয়েস্ট করা হচ্ছে। একটু সময় গেলেও ভালো কাছু জানতে ও শিখতে পারবেন। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

কম্পিউটার ভাইরাসের আক্রমণ কি কি কারণে হতে পারে তা আমরা সবাই কম বেশি অবগত। কিন্তু এই কম্পিউটার ভাইরাস আসলে কি?

কম্পিউটার ভাইরাস কি

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরণের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম সফটওয়্যার। যা আপনার কম্পিউটারে প্রবেশের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। কম্পিটারকে অকেজো করে দেয়ার মাধ্যমে আপনার তথ্য নিয়ে নেয়ার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।

বিভিন্ন হ্যাকার কোম্পানী এসব প্রোগ্রাম সফটওয়্যার বানায়। যা কৌশলে আপনার কম্পিউটারে তারা প্রবেশ করিয়ে দেয়। 

কম্পিউটারে কিভাবে ভাইরাস প্রবেশ করে

ইতিমধ্যে আপনি জেনেছেন কম্পিউটার ভাইরাস কি/ কাকে বলে বা বলতে কি বুঝায়। এবার জানবেন কোন কোন কারণে এবং কিভাবে একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে। চলুন শুরু করা যাক-

নেটওয়ার্কিং সিস্টেম মাধ্যমে

নেটওয়ার্ক বলতে এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের আন্তঃসংযোগ স্থাপন করাকে বুঝায়। নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। যদি আপনি আপনার কম্পিউটার এমন কোন কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করেন যেটা পূর্বে থেকেই ভাইরাস আক্রান্ত তাহলে অই কম্পিউটারের ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অন্য কোন কম্পিউটারের সাথে নিজের কম্পিউটার সংযোগ করতে চাইলে তা আগে থেকে ভাইরাস মুক্ত করে রাখুন। 

ইন্টারনেট সংযোগ দ্বারা

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সব চেয়ে সহজ মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। আবার ইন্টারনেট ছাড়া কম্পিউটার ব্যবহার বৃথা। তাই কম্পিউটার ব্রাউজিং করতে গেলে আপনার কম্পিউটার অনিরাপদ হয়ে পড়ে। যার ফলে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ক্ষতি হয়। তাই কম্পিউটারে এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার রাখতে হয়। এটি দুই ভাবে করা যায়।  ফ্রি এন্টিভাইরাস অথবা পেইড এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে। এর জন্যে কিনে নিয়ে নর্তন বা ক্যাম্পেরিস্কাই ব্যবহার করতে পারেন। অথবা ট্রায়াল হিসেবে ফ্রী তে এভাস্ট ব্যবহার করতে পারেন। 

Read More:   ১০০% নিশ্চিত অনলাইন ইনকাম মোবাইল দিয়ে ২০২২ (ভিডিও সহ)

বহিরাগত পেনড্রাইভ ও মেমোরি দ্বারা

আপনি কি যার তার পেনড্রাইভ বা মেমোরি আপনার পিসিতে ভাইরাস স্ক্যান  না করেই কানেক্ট করেন? তাহলে মনে রাখুন আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হতে পারে ভাইরাসে। কারণ উক্ত মেমোরি বা পেনড্রাইভে থাকতে পারে ভাইরাস। তাই যে কারো পেনড্রাইভ বা মেমোরি নিজের কম্পিউটারে সংযুক্ত করার আগে চেষ্টা করুন ইউ এসবি ডেস্ক সিকিউরিটি ড্রাইভ ব্যবহার করতে। এটি ব্যবহার করলে ভাইরাস সম্পর্কে আপনাকে সর্তক করবে এবং তখন স্ক্যান করে ভাইরাস ডিলিট করতে পারবেন। 

শেয়ারিং এপস

বন্ধুর কাছ হতে সদ্য তোলা ছবি মোবাইলে শেয়ার করতে আমরা অনেক শেয়ারিং এপ্স ব্যবহার করে থাকি। ব্লুটুথ ও এপ না হলেও সবার ডিভাইসেই রয়েছে। অন্যদিকে শেয়ার ইট, মাই শেয়ার ইত্যাদি শেয়ারিং এপ্স বেশ জনপ্রিয়। শেয়ারিং ইজ ক্যায়ারিং এই কথাটি এই ক্ষেত্রে হতে পারে ক্ষতির কারণ। কেবল আমরা ছবি শেয়ার করি না। ছবির সাথে নিজের না অন্যের ডিভাইসে থাকা ভাইরাস গুলো এর মধ্যে নিজেদের জায়গা বদল করে নেয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই মোবাইল পিসি ইত্যাদি থেকে শেয়ারে কিছু আদান-প্রদান করতে আগে থেকে ক্লিন করে নিন ভাইরাস। এতে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত থাকবে। 

সিডি ড্রাইভ মাধ্যমে

কম্পিউটারের সিডির মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। গেইমিং বা নানা কারণে আমরা বাজার থেকে সিডি এনে তা কম্পিউটারে প্রবেশ করাই। এতে করে অই সিডির মাধ্যমে কম্পিউটারে ক্ষতিকর ভাইরাস প্রবেশ করে। তাই যেন তেন ভাবে সিডি কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে নিজের কম্পিউটারকে বিপদে ফেলবেন না। এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন অথবা সিডি স্ক্যান করে নিন। 

মোবাইল সংযোগ দ্বারা

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোবাইলের সাথে আমরা পিসি কানেক্ট করে থাকি। এটি করার মাধ্যমে ভাইরাস ট্রান্সপার  হয়। তাই মোবাইলের সাথে কম্পিউটার কানেক্ট করার আগে মোবাইলে অবশ্যই স্ক্যান করে ভাইরাস মুক্ত করে নিতে হবে। এর পর ইউ এস বি ব্যবহার করে কানেক্ট করতে হবে৷ 

ওয়াইপাই এর মাধ্যমে

ওয়াই পাই ব্যবহার করেন না এমন ব্যক্তি পাওয়া এখন কঠিন। এবং সবাই ই কোন না কোন ডিভাইস ব্যবহার করে থাকে ওয়াইফাইতে। কিন্তু এর ফলে ওয়াই ফাই থেকে মোবাইল এবং এরপর তা কম্পিউটারে আসার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই ওয়াই ফাই এর সাথে যে ডিভাইসই কানেক্টেড থাকুক না কেনো তা অন্য কোন ডিভাইস সংযোগ করার আগেই ভাইরাস ডিলিট করতে হবে। অথবা পূর্ব সর্তকতা দেখিয়ে আগেই এন্টিভাইরাস  ব্যবহার করতে হবে। 

ফাইল ডাউনলোড করার মাধ্যমে

ইন্টারনেটের যুগে এসে ডাউনলোডের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। যেকোন সময় যে কোন কিছু সহজেই ডাউনলোড করে নিচ্ছি। কিন্তু এর মাধ্যমে সহজেই আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে ক্ষতিকারক কম্পিউটার ভাইরাস। অনেক সময় ডাউনলোড একটা দিলে অন্যটা হয়। যা কম্পিউটার হ্যাং করে দেয়। এর জন্যে ডাউনলোড করার আগে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। এন্টিভাইরাস ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। 

এতক্ষণে আশাকরি আপনি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন কম্পিউটারে কিভাবে ভাইরাস প্রবেশ করে। চলুন তবে এবার সমধানের জন্য। এবার জানবেন ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।

Read More:   সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ২০২২ করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে

কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়

দৈনন্দিন প্রয়োজনে আমরা যে ল্যাপটপ কম্পিউটার ব্যবহার করি তা হামেশাই প্রয়োজন হয় দ্রুত ভিত্তিতে কোন কাজ করার। এতে করে মাঝে মাঝে আমরা ভাইরাস প্রবেশ হওয়ার মতো কার্যকলাপ কম্পিউটারের সাথে করে বসি। যেহেতু সমস্যা আছে তার সমাধান ও আছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে-

এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা

এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।  কারণ প্রতিবার সর্তকতা নাও থাকতে পারে। তাই ফ্রী বা পেইড একটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কম্পিউটারে রাখলে তা অটো স্ক্যান করতে থাকবে। এন্টিভাইরাস ইন্সটল করার সাথে সাথে তা এক্টিভ ভাবে কাজ করবে। আপনাকে কিছু করতে হবে না। যদি না করে তাহলে সময় নিয়ে আপনি স্ক্যান করে নিতে পারবেন। 

ভাইরাস আক্রান্ত হলে সতর্কতা/ কি করবেন

অনেক সময় অসর্তকতা বসত পিসি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যায়।  তখন কোন সমস্য দেখা দেয়ার আগেই পিসিকে ভাইরাস মুক্ত করতে হবে। এই জন্যে আপনাকে আপনার কম্পিউটার  উইন্ডোজ দিয়ে নিতে হবে। যদি উইন্ডোজ দিতে না পারেন তাহলে একটি ভালো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার নিতে পারেন। যেটি দিয়ে পুরো কম্পিউটার স্ক্যান করে নিবেন। এরপর আপনার হার্ডডিস্কের স্ক্যানিং ও করুন। আপনার হার্ড ডিস্ক একবার ভাইরাস মুক্ত হলে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখুন। সর্তক থাকুন। 

গুরত্বপূর্ণ কিছু টিপস

ইন্টারনেট ছাড়া এখন জীবন অচল অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই৷ তাই নিয়মিত এন্টিভাইরাস আপডেট দিয়ে রাখুন। যেকোন পেনড্রাইভ বা মেমোরি কম্পিউটারে ব্যবহার করার আগে ফোল্ডার থেকে ওপেন করুন। ডিরেক্ট ওপেন করলে ভাইরাস থাকলে তা দ্রুত আপনার কম্পিউটার আক্রমণ করে আপনার সিস্টেম খারাপ করে দিবে। 

যেকোন এক্সটার্নাল ডিভাইস কম্পিউটারে প্রবেশ করাতে হলে তা কানেক্ট করে আগে স্ক্যান করে নিন। তারপর ব্যবহার করুন। 

ভিডিওতে দেখুন

এতক্ষণ টেক্সট এর মাধ্যমে আমরা আলোচনা করেছি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে। আপনি যদি খুব ব্যস্ত হয়ে থাকেন বা টেক্সট পড়ার সময় হাতে না থাকে তবে এই  ভিডিওটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখুন।

Read More:   অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট ২০২২ (বাচাইকৃত সেরা তালিকা)

ল্যাপটপ ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়

আমাদের শেষ কথা

কম্পিউটার, ইন্টারনেট না থাকলে জীবন অচল। ব্যবসা, শিক্ষা,ব্যক্তিগত ব্যবহার সব কাজেই কম্পিউটার। তাই  অতিপ্রয়োজনীয় এই বস্তুটির সুরক্ষায় আপনি এটিকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে হবে৷ তার জন্যে উপরের সর্তকতা গুলো অনুসরণ করুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button