Others

ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ

করোনা ভাইরাসের আবির্ভাবের প্রায় দুই বছর হয়ে গেলো এখনো এর ভয়ংকর চমক দেখানো শেষ হয় নি। তার উদাহরণ এবারের ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন। বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনা টিকা দেয়ার কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ হচ্ছে আর এরই মধ্যে হানা দিয়েছে করোনার নতুন উপসর্গ নিয়ে নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন। ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ নিয়ে আজকের আলোচনা।

উৎপত্তি ও ধরণ

ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ জানার পূর্বে এর উৎপত্তি নিয়ে একটু কথা বলি।  ধারণা করা হচ্ছে নতুন উপসর্গ সহ আবির্ভাব হওয়া করোনার এই ভেরিয়েন্ট এসেছে সাউথ আফ্রিকা থেকে। কারণ বিভিন্ন দেশে প্লেনে ভ্রমণকারিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভেরিয়েন্টটি পাওয়া গেলে নিশ্চত হওয়া গেছে যে এই ভ্রমণকারিরা দক্ষিন আফ্রিকা থেকে এসেছে। যার ফলে অনেকটাই নিশ্চত যে এটি আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট। অন্যান্য ধরণের চেয়ে এবারের ধরণটি কেমন হবে তা নিয়ে এখনো বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নয়৷ তবে। এবারের ধরণ তেমন ভয়ংকর না হওয়ারই সম্ভাবনা আছে।

যেহেতু করোনা ভাইরাস দীর্ঘ দিন ধরে আক্রান্ত করছে মানুষকে এবং নানা সময় এটি মিউটেন্ট হয়েছে তাই আস্তে আস্তে এর শক্তি কমে এসেছে। তাই পূর্বের ধরণ গুলো থেকে বর্তমান বা সামনে কোন ভেরিয়েন্ট আসলে তা তুলনা মূলক কম শক্তিশালী হবে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় সকল দেশে টিকা কার্যক্রম চলছে। সে হিসেবে করোনার দুর্বল হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে এটি ডেল্টার থেকে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষত ভেক্সিন শেল্ড ভেঙে দেয়ার মত। ওমিক্রনের এখন অব্দি ২৬ টি মিউটেন্ট পাওয়া গিয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে ৫০ টি মিউটেন্ট পাওয়া গেছে। যার অনেক গুলোতে ভেক্সিনের এন্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। তাই এটি একটি ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকার গবেষকদের ধারণা ওমিক্রন স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশনে উপর ভিত্তি করে যথেষ্ট প্রতিরক্ষা দেখাবে।

ভয়ের কারণ আছে কিনা-

করোনা ভাইরাস যেহেতু দ্রুত ছড়ায় এবং যে কোন সময় রূপ বদলায় তাই ওমিক্রন থেকেও সাবধান থাকাই উত্তম। তাই যারা এখনো ভেক্সিন দেননি দ্রুত নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।  আবার যারা ভেক্সিন নিয়েছেন তারা সাবধানতার সাথে চলা ফেরা করুন। মাস্ক ব্যবহার করুন, ভীড়  এড়িয়ে চলুন। ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ নিয়ে ভয়ের কারণ আছে কিনা নিম্নে থাকছে বিস্তারিত।

ভাইরাসের যে অংশটি প্রথমম মানুষের দেহকোষের সাথে সংযোগ ঘটায় তার নাম রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন। এই ভেরিয়েন্ট সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইনে মিউটেশন ঘটিয়েছে ১০ বার। সেই তুলনায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে এই পরিবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র  দুইবার।

কিন্তু ভয়ের কথা হলো চীনের  করোনার প্রথম যে জীবাণুটি দেখা গিয়েছিল তার তুলনায় এই ভাইরাস এখন অনেকখানিই ভিন্ন। এর মানে হলো, করোনার মূল স্ট্রেইনকে মাথায় রেখে তৈরি করা ভ্যাকসিন এই ভাইরাসের বিপরীতে কার্যকর নাও হতে পারে!

অন্যদিকে করোনার  অনেক ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে ভয়ংকর  বলে মনে হলেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। যেমন এ বছরের শুরুর দিকে বেটা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেদ করতে এর কোন জুড়ি ছিল না।  পরে দেখা গেল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর চেয়েও দ্রুত গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।

আপনি পড়ছেন ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ সম্পর্কে আরও পড়ুন: ওমিক্রন ভাইরাস এর বর্তমান অবস্থা

তাই এখনি পরিষ্কার কোন ধারণা দেয়া যাচ্ছে না ওমিক্রন নিয়ে। এখন কিছু প্রশ্নের উত্তর মিল্লেও বাস্তব পরিস্থিতির মাধ্যমে জানা যাবে। তবে যে ইঙ্গিত এখনি পাওয়া যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক।

করোনার  সাধারণ পরীক্ষায় এই ভ্যারিয়েন্টের কিছুটা বিচিত্র দেখায়, গবেষণার  ভাষায় যাকে বলে ‘এস-জিন ড্রপ আউট’। ফলে এই প্রকৃতির জন্যই সম্পূর্ণ  জিন বিশ্লেষণ না করেও হয়তো এটি কীভাবে, কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে তা জানা সম্ভব হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় বিশেষজ্ঞরা এখনো এর ভয়াবহতা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না। সর্বিপরি সর্তকতা অবলম্বন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ওমিক্রন ভাইরাস এর লক্ষণ সম্পর্কিত উপরোক্ত আলোচনা আপনার কেমন লাগলো তা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button