নারী শিক্ষা কেন প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব রচনা আকারে

আপনার যদি আজকের অনুসন্ধান হয়ে থাকে নারী শিক্ষা কেন প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই কন্টেন্ট আপনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব রচনা হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাক।

নারী শিক্ষা কেন প্রয়োজন

এই কথার সহজ উত্তর হলো সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে আপনার কয়টি হাত প্রয়োজন,অবশ্যই দুইটি। তেমনি সমাজকে উন্নয়ন এর দিকে নিয়ে যেতে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নারী কে ছাড়া সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।তবে নারী শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো পুরুষ শাষিত সমাজ ব্যবস্থা।

পুরুষ এরা চায় নারীর পিছিয়ে থাকুক এবং তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকুক। তবে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে নারীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। তবে নারী শিক্ষার উদ্দেশ্য সফল করতে পুরুষদের ভূমিকা ও অস্বীকার করলে চলবে না। আশাকরি নারী শিক্ষা কেন প্রয়োজন তা বুঝতে পেরেছেন।

নারী শিক্ষার উদ্দেশ্য

নারী শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো নারীদের অগ্রগতি এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা। একসময় দেশের পুরুষ শাষিত সমাজ এর ধারণা ছিল যে নারীদের শিক্ষার কোনো প্রয়োজন নাই। নারীরা হলো ঘরের মেয়ে লোক। তাদের লেখাপড়া শিখে কি লাভ হবে। তাদের দ্বারা তো দেশের কোনো কাজ হবে না।তারা তো দেশে কোনো চাকরি করতে পারবে না।

এমনটা ছিল অন্ধকার যুগ এর ধারণা।যার কারণে আমাদের দেশ তখন অর্থনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে ছিল।দেরিতে হলেও সবাই এখন বুঝতে পারছে যে পুরুষ দের পাশাপাশি নারীদের ও শিক্ষার প্রয়োজন আছে। এতে নারী শিক্ষার উদ্দেশ্য নিহীত হয়েছে।

See also  ২১ শে ফেব্রুয়ারি ব্যানার, পোস্টার ডিজাইন ২০২৪ (নতুন ডিজাইন)

দেশে এখন ও অনেক মেয়ের বিবাহিত জীবনে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে।অনেক মেয়ে স্বামীর বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসছে। তখন তাদের জীবনে নেমে আসে চরম দুঃখ- দূর্দশা। তাই নারীরা শিক্ষিত হলে যেকোনো কর্ম করে বেঁচে থাকতে পারে।তাছাড়া সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া খুব জরুরি।

একজন মা শিক্ষিত হওয়া মানে পুরো পরিবার শিক্ষিত হওয়া।এতে কোনো সন্দেহ নেই।তাই মেয়েদের ভবিষ্যত সংসারের কথা চিন্তা করে হলেও শিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে।

নারী শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের অবদান

এখন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে মেয়েদের শিক্ষার জন্য রয়েছে সু-ব্যবস্থা। দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নারী শিক্ষার উন্নয়ন এ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পৌরসভার বাইরে বিনা বেতনে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ আর মহানগরীর বাইরে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির সুযোগ রয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করা হচ্ছে।শিক্ষিত ও সল্প শিক্ষিত নারীদের বৃত্তি মূলক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জাতীয় নারী প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন একাডেমি পূর্ণগঠন এবং প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন করা হয়েছে। বেগম রোকেয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বেগম শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের জন্য নারী শিক্ষা

নারীকে সাবলম্বী হতে হলে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন।কেননা কর্মসংস্থানই পারে নারীকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে।বর্তমান সরকার নারীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে যা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নারীর কর্মে প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬০% নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে যা নারীদের জন্য বিরাট সুযোগ।

নারী শিক্ষা প্রসারে বাধা সমূহ

সচেতনতার অভাব – নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধান অন্তরায় গণসচেতনতার অভাব। নারী শিক্ষার গুরুত্ব সমপর্কে মানুষ এখন ও অসচেতন।

See also  যানজট অনুচ্ছেদ ২০২৩ আপডেট

বাল্যবিবাহ – প্রায় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়।ফলে মেয়েরা কাঙ্খিত শিক্ষা অর্জন করতে পারে না।

ধর্মীয় গোড়ামী – ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের শিক্ষা হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।অন্য ধর্মাবলম্বীরা কিছু টা সুযোগ পেলেও মুসলিম মেয়েরা এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

নারী শিক্ষার প্রসারে আমাদের করণীয়

সচেতনতা বৃদ্ধি – নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে জনসাধারণের মধ্যে প্রচার চালাতে হবে। নারী শিক্ষার গুরুত্ব সবাই কে বোঝাতে হবে।

মানসিকতা পরিবর্তন – নারী শিক্ষার প্রসারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। নারীদের চেয়ে পুরুষকে উত্তম মনে করার ধারণা পাল্টাতে হবে।

ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসা – শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী দের পশ্চাপদতার অন্যতম কারণ ধর্মীয় গোঁড়ামি। এই গোঁড়ামি দূর করতে ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।

উপসংহার

সমাজের উন্নতিতে নারী শিক্ষা শুধু প্রয়োজনই নয় অপরিহার্য ও বটে। একজন নারী ই পারে একটি সমাজকে বদলে দিতে। একবিংশ শতাব্দী হলো বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও মননের যুগ। নারী এবং পুরুষ হলো সমাজের দুই প্রধান চালিকাশক্তি।আজকে যদি আমরা বর্তমান সামাজিক অর্থনৈতিক দিকে তাকাই তাহলে সবদিকে নারীদের সফলতা দেখতে পাব।

উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পাব জ্ঞান বিজ্ঞান এর দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে ১০০ গুন অগ্রগামী। কেননা তাদের সফলতার মূলমন্ত্র নারী শিক্ষা। তাই সরকারের উচিত নারী শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া তবেই সমাজ ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব।

অত্র পোষ্টে নারী শিক্ষা কেন প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবাণ সময়ের জন্য। আরো ব্লগ পোষ্ট পড়তে ভিজিট করুন Elana Blog।

Leave a Comment