সরকারী সেবা

জন্ম তথ্য সংশোধন করার নিয়ম

বর্তমান সময়ে আমাদের বাংলাদেশে বসবাস করা সব মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল জন্ম নিবন্ধন। মূলত যখন একটি শিশুর জন্ম হয়, তখন সেই শিশুটির সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য অন্যতম অধিকার হলো এই জন্ম নিবন্ধন (Birth Certificate). যদি আপনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে এই দেশের সকল সুযোগ সুবিধা গুলো ভোগ করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। 

কিন্তু যদি আপনার সেই গুরুত্বপূর্ণ জন্ম নিবন্ধনে কোন প্রকার ভুল থাকে। তাহলে আপনাকে খুব দ্রুততার সাথে সেই জন্ম তথ্য সংশোধন করে নিতে হবে। কেননা আপনি যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনের ভুল তথ্য সংশোধন না করেন। সেক্ষেত্রে আপনি পরবর্তী সময়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

আর আজকের আর্টিকেল টি মূলত সেই উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্যে কোন প্রকার ভুল থাকে। তাহলে সেই জন্ম তথ্য সংশোধন করার নিয়ম কি কি। সে বিষয় গুলো নিয়ে আসবে আমি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব। কারণ আপনি এমন অনেক মানুষ কে খুঁজে পাবেন। যাদের জন্ম নিবন্ধনে থাকা জন্ম তথ্যে নানা রকম ভুল রয়েছে। 

যেমন, কারো কারো জন্ম নিবন্ধনে তাদের বয়সের ভুল রয়েছে। আবার কিছু কিছু জন্মনিবন্ধনে তাদের নিজের নামের ভুল রয়েছে। তো আপনার যদি এই ধরনের কোন ভুল থাকে, সে ক্ষেত্রে আজকের এই আর্টিকেল টি আপনার জন্য অনেক বেশি হেল্পফুল হবে। কারণ আজকের এই আর্টিকেলে আমি জন্ম তথ্য সংশোধন করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব। তো চলুন এবার তাহলে সেই জন্ম তথ্য সংশোধন করার নিয়ম গুলো জেনে নেওয়া যাক।

Table of Contents

জন্ম তথ্য সংশোধন

আজকের দিনে আপনি জন্ম নিবন্ধন নেই, এরকম মানুষ কে খুঁজে পাবেন না। কেননা বর্তমান সময়ে একটি শিশুর জন্মের 45 দিন পরেই সেই শিশুটির জন্ম নিবন্ধন করাতে হয়। তবে সবার জন্ম নিবন্ধন থাকলেও, অধিকাংশ সময় দেখা যায় যে। এই ধরনের জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্য গুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকমের ভুল থাকে। এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের তথ্যের সাথে জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্যের কোন প্রকার মিল পাওয়া যায় না। 

মূলত যারা এখনো পড়াশুনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা টা অধিক লক্ষ্য করা যায়। কেননা তাদের স্কুল কলেজে দেওয়া সার্টিফিকেট এর সাথে জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্যের কোন প্রকার মিল পাওয়া যায় না। কিন্তু আপনি যদি একজন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আপনার সেই জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্য গুলো নির্ভুল হতে হবে। না হলে আপনি পরবর্তীতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

জন্ম তথ্য সংশোধন অনলাইন

আপনি যদি অতীতের দিন গুলোর কথা চিন্তা করেন, তাহলে আপনি জানতে পারবেন যে। সেই সময় কিন্তু হাতে লেখা কাগজে জন্ম নিবন্ধন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে তার অনেক পরিবর্তন এসেছে। কেননা ডিজিটাল এই যুগে আধুনিকতার প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি এই জন্ম নিবন্ধন। আর সে কারণেই বর্তমান সময়ে হাতে লেখা কোন জন্ম নিবন্ধন কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং আজকের দিনে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। 

আর সে কারণে বর্তমান সময়ে আপনি অনলাইন পদ্ধতিতে মাত্র 10 থেকে 15 দিনের মধ্যে। খুব সহজে আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। এবং আপনার জন্ম নিবন্ধনে থাকা ভুল তথ্যের সংশোধন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি অনলাইনে মাধ্যমে আপনার জন্ম নিবন্ধনে থাকা ও ভুল তথ্য সংশোধন করতে চান। তাহলে আপনার কাছে বেশ কিছু প্রমাণিত দলিল এর প্রয়োজন হবে যেমন:

  1. যে ব্যক্তি আবেদন করবে সেই ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে। এবং সেই জন্ম নিবন্ধন টি অবশ্যই অনলাইনে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
  2. যে ব্যক্তি আবেদন করবে সেই ব্যক্তির নিজের পিতা ও মাতার অনলাইন নিবন্ধিত জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজন হবে।
  3. আবেদনকারী ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অথবা টিকার সনদ অথবা তথ্য প্রমাণ করার জন্য অন্যান্য কোন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ সনদের প্রয়োজন হবে।
Read More:   জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন

তো আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম তথ্য সংশোধন করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার নিকট উপরে উল্লেখিত দলিল বা ডকুমেন্টস গুলো প্রয়োজন হবে। এবং তারপরেই আপনি আপনার ভুল থাকার জন্ম তথ্য সংশোধন করতে পারবেন।

জন্ম তথ্য সংশোধন করার উপায়

যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনের থাকা কোন তথ্য ভুল থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে মাধ্যমে সেই জন্ম তথ্য সংশোধন করে নিতে পারবেন। তবে অনলাইন পদ্ধতি তে আপনার জন্ম তথ্য সংশোধন করার জন্য অবশ্যই উপরোক্ত ডকুমেন্টস গুলো প্রয়োজনে হবে।আর যখন আপনার সেই ডকুমেন্ট গুলো থাকবে। তখন আপনি বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে। আপনার জন্ম তথ্য সংশোধন করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এবার আমি আপনাকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যে আপনি আসলে কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার ভুল থাকার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে নিবেন। চলুন এবার তাহলে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  1. সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে একটি ব্রাউজারে যেতে হবে।
  2. ব্রাউজারে যাওয়ার পর আপনাকে বাংলাদেশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
  3. যদি আপনার বাংলাদেশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুঁজে নিতে সমস্যা হয়। তাহলে আপনি সরাসরি এখানে ক্লিক করেও যেতে পারবেন।
  4. তো আপনি যদি উপরের লিংকে ক্লিক করেন। তাহলে আপনি দুটো ফাঁকা বক্স দেখতে পারবেন।
  5. প্রথম ফাকা বক্সে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধনের থাকা 17 ডিজিটের নাম্বারটি প্রবেশ করাবেন। এবং দ্বিতীয় ফাকা বক্সে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধনে থাকা জন্ম তারিখ, মাস ও সাল বসিয়ে দিবেন।
  6. এরপর আপনাকে অনুসন্ধান নামক অপশনে ক্লিক করতে হবে।
Read More:   জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন

তো যখন আপনি অনুসন্ধান নামক অপশনে ক্লিক করবেন। তখন আপনি সেই ওয়েবসাইট এর আলাদা একটি পেজে চলে যাবেন। এবং সেই পেজে যাওয়ার পরে আপনাকে আপনার বেশ কিছু তথ্য দেয়ার প্রয়োজন পড়বে। যেমন, আপনার দেশের নাম, আপনার বিভাগের নাম, জেলার নাম, সিটি কর্পোরেশন এর নাম, পৌরসভার নাম, অফিস ইত্যাদি।

আর এই যাবতীয় তথ্য গুলো দেওয়ার পরে আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে। অর্থাৎ যখন আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনাকে টাকা পেমেন্ট করতে হবে। তবে আপনাকে সংশোধন কাজ করার জন্য মোট কত টাকা প্রদান করতে হবে, সেটা আপনি আপনার স্ক্রীনের সামনে দেখতে পারবেন। আর যখন আপনি এই যাবতীয় কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে পারেন। তারপরে আপনি Success নামক একটি মেসেজ দেখতে পারবেন।

জন্ম তথ্য সংশোধন নিয়ে কিছু কথা

প্রিয় পাঠক, আপনি যখন জন্ম তথ্য সংশোধন করার জন্য অনলাইনে আবেদন করবেন। তখন অবশ্যই সেই অনলাইনে আবেদন টি প্রিন্ট করে নিবেন। কেননা পরবর্তী সময়ে আপনাকে এই প্রিন্ট করা আবেদন ফরম টি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জমা দিতে হবে। 

এবং একটা কথা অবশ্যই আপনার জেনে রাখা উচিত। আর সেই কথাটি হলো যে, অনলাইনে আপনি শুধু মাত্র চার বার আবেদন করতে পারবেন। তাই চেষ্টা করবেন সঠিক ভাবে যেনো প্রথম বারেই আপনি সফল ভাবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button