Others

স্বাধীনতা দিবস রচনা ২০২২ | Independence Day Bangla Essay 2022

২৬ শে মার্চ অনুচ্ছেদ, রচনা, প্রতিবেদন

ওয়েলকাম প্রিয়! আপনি যদি বিশেষ প্রয়োজনে অনুসন্ধান করে থাকেন ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুচ্ছেদ রচনা ২০২২ বা Independence Day Bangla Essay 2022 তবে সঠিক জায়গায় আছেন।

সংকেত: ১। ভূমিকা, ২। ঐতিহাসিক পটভূমি, ৩। ঐতিহাসিক পটভূমির ধারাক্রম, ৪। অপারেশন সার্চলাইট, ৫। বাঙালিদের প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা অর্জন, ৬। উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য, ৭। বর্তমান বাস্তবতা, ৮। সংকট উত্তরণের উপায়, উপসংহার।

ভূমিকা

‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়. . .’
-রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।

মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন। তারএই জন্মগত অধিকার যখন অন্যের দ্বারালুণ্ঠিত হয় তখনই সে প্রতিবাদ করেওঠে। সর্বস্বের বিনিময়ে নিজেরস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সচেষ্টহয়। ২০০ বছরের ব্রিটিশঔপনিবেশিক শাসনেরপর বাঙালি জাতিকে দীর্ঘ ২৪বছর পাকিস্তানি শোষকদের বর্বরোচিত শোষণের নির্মমশিকার হতে হয়। পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ বাঙালি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠারস্বপ্নে মৃত্যুপণ সংগ্রাম শুরুকরে।

নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ; ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে জন্মনেয় স্বাধীন-সার্বভৌম একটিদেশ বাংলাদেশ। ২৬ মার্চ স্বাধীনতারপথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই গৌরবময় দিনটিইবাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবেসমাদৃত।

ঐতিহাসিক পটভূমি

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখাযায়, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের স্বপ্নবীজ মূলত বপনকরা হয়েছিল সেই ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশদের ভারতত্যাগের সময়ই। পরবর্তীতে প্রতিটিক্ষেত্রেই ক্রমাগত শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্যমূলক আচরণ, ন্যায্যঅধিকার প্রদানে অস্বীকৃতি প্রভৃতি আন্দোলনের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করে। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারপ্রতিষ্ঠার এই পরোক্ষসংগ্রাম ১৯৭১ এ এসে অবশ্যম্ভাবী হয়েওঠে। অনিবার্য মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টিহয় ‘বাংলা’ ভূখন্ড।

ঐতিহাসিক পটভূমির ধারাক্রম

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ-বেনিয়াদেরকাছ থেকে স্বাধীনতা লাভেরপর ভারতবর্ষ বিভক্তহয়ে ভারত-পাকিস্তান দু’টিআলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যোজন-যোজন দূরত্বসত্ত্বেও শুধুমাত্র ধর্মের দোহাইদিয়ে পাকিস্থান ও বাংলাদেশনিয়ে গঠিত হয় নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান। অদ্ভূত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানেরশাসকদের অনাচার-অত্যাচার আর সর্বক্ষেত্রে চরমবৈষম্য-বঞ্চনার স্বীকারহয় বাঙালি জাতি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কেবল অর্থনৈতিক শোষণইনয় বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপরও নিপীড়ন শুরু করে। ১৯৪৮সালে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর মোহাম্মদ আলীজিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবেঘোষণা করে। তখনই ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের মধ্যদিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের প্রতিপূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটতেশুরু করে।

১৯৫২ সালে উর্দুকে আবারওরাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণাদিলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রজনতা বিক্ষোভে ফেটেপড়ে। রাষ্ট্রভাষা বাংলারদাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গকরে মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে। বর্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মিছিলেগুলি চালালে শহিদ হন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ আরও অনেকে। শহিদদের এই পবিত্ররক্তই যেন বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীন লাল-সবুজের পতাকারছবি এঁকে দেয়।

১৯৫৪ সালেরপ্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। মুসলিমলীগের অসহায় ভরাডুবিতে নড়বড়ে হয়েপড়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতার ভিত। ১৯৫৬ সালেপুনরায় সরকারি ভাষায় বিতর্ক, আইয়ুব খানেরঅপশাসন, পাঞ্জাবি ও পশতুনদের ঋণ বাঙালিদের ওপরজোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া প্রভৃতিকারণে বাঙালিদের মনের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তেথাকে।

১৯৬৬ সালে বাঙালির স্বাধিকারের দাবিতেঐতিহাসিক ‘ছয়-দফা’ দাবি উত্থাপিত হয়। গণবিক্ষোভ প্রতিহত করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সামরিকশাসনের মাধ্যমে স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর চালাতেথাকে অত্যাচার, নিপীড়ন। ১৯৬৮ সালে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পুরোধাব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানাকে মিথ্যাও সাজানো ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’য় গ্রেফতার করাহয়। কিন্তু প্রবল গণআন্দোলনের মুখেপাকিস্তানি অপশক্তি ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ছেড়েদেয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকরে পদত্যাগ করতেবাধ্য হন।

ওহে ! আপনি পড়ছেন স্বাধীনতা দিবস রচনা ২০২২ (Independence Day Bangla Essay 2022) । চাইলে আরও পড়তে পারেন- 

Read More:   ২৬ শে মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস (বিস্তারিত জানুন)

১৯৭০ সালের সাধারণনির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটে জয়লাভকরে। দফায় দফায় বৈঠক করারপরও ক্ষমতালিপ্সু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাহস্তান্তরে কালক্ষেপণ করতেথাকে। এমতাবস্থায় ১৯৭১সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশালসমাবেশের ডাক দেন। সমাবেশের ঐতিহাসিকভাষণে তিনি- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতারসংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ বলে যার যাকিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধেঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। এমন একটি উদাত্ত আহ্বানেরজন্যই এতদিন যেনঅপেক্ষা করেছিল বাঙালি। সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে পড়েএই ডাক। সর্বত্রশুরু হয় তুমুল আন্দোলন।

অপারেশন সার্চলাইট

২৫ মার্চের অন্ধকার রাতে বর্বরপাকিস্তানি পশুশক্তি নিরস্ত্র-ঘুমন্ত বাঙালিরওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরুকরে। এশিয়া টাইমসের ভাষ্যঅনুযায়ী, “Indians are bastards anyway”. সামরিক বাহিনীর বড়বড় অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণ করেন- “তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারাআমাদের হাত চেটে খাবে।” সে পরিকল্পনা মতোই ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানিআর্মি অপারেশন সার্চলাইটআরম্ভ করে যারউদ্দেশ্য ছিল বাঙালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসাবে সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্রকরে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজনিধন করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে নির্বিচারে সাধারণমানুষ হত্যা করা হয়।

বাঙালিদের প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা অর্জন

২৫ মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬মার্চের প্রথমপ্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেযান। তাঁর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য সংগঠকবৃন্দ অস্থায়ীমুজিবনগর সরকার গঠন করেপাকবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্রআন্দোলন গড়ে তোলেন। সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধসংগ্রাম, বন্ধুরাষ্ট্রসমূহের সর্বাত্মক সহায়তা, বিশ্ব গণমাধ্যমের ইতিবাচকভূমিকা তদুপরি ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুইলক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অবশেষেস্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য

স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন ও অসাম্প্রদায়িক, কল্যাণমুখী, মানবিক, প্রগতিশীল স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিকরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়সংগতঅধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেজাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা, শোষণ, বৈষম্য, অন্যায়ের অবসানঘটিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ সমাজপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার অন্যতম প্রধানউদ্দেশ্য।

জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। এই দিনটি বাঙালির জীবনেবয়ে আনে একই সঙ্গে আনন্দ-বেদনার অম্ল-মধুর অনুভূতি। একদিকেহারানোর কষ্ট অন্যদিকে প্রাপ্তির আনন্দ। তবেশেষ পর্যন্ত সর্বস্ব হারিয়েও স্বাধীনতা প্রাপ্তির অপারআনন্দই বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালির কাছে। গৌরবোজ্জ্বলএই দিনটি প্রতিবছর আসে আত্মত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের বার্তা নিয়ে। স্মরণকরিয়ে দেয় আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। নবউদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনানিয়ে আসে এইদিন।

বর্তমান বাস্তবতা

‘কি দেখার কথা কি দেখছি. . . তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি. . .’ স্বাধীনতার স্বপ্ন আরবর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনা করলেগায়ক হায়দার হোসেনের এই গানটিই যেন করুণসুরে বেজে ওঠে মনেরকোণে। তিরিশ নয়, তেতাল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে স্বাধীনতার। সুখী-সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণসমাজের স্বপ্ন পূরণ হয়নিআমাদের। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্বের দুর্বিপাকেএখনও আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। মূল্যবোধের অবক্ষয়, হিংসাত্মক অপরাজনীতি, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি, সীমাহীন দুর্নীতি প্রভৃতি স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লাগামটেনে ধরে আছে। স্বাধীনতার চেতনা যেন ম্লানহয়ে যেতে বসেছে আর আমরা ক্রমশই যেনপিছিয়ে যাচ্ছি।

সংকট উত্তরণের উপায়

সংকট উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আশার কথাহলো, আমাদের বর্তমানপ্রজন্ম স্বাধীনতার ব্যাপারে যথেষ্টআগ্রহী। এই প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশকেএগিয়ে নেয়ার দীক্ষায় দীক্ষিত করতেহবে। এ জন্য এদের হাতে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলেদেয়া জরুরি। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছথেকে সঠিক ইতিহাস সংগ্রহেরমাধ্যমে ইতিহাসবিকৃতি রোধেরমাধ্যমে তা সম্ভব হতে পারে। দল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে কল্যাণমুখীরাজনীতির চর্চা করতে হবে।

উপসংহার

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে,
দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক
এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা।

কবি শামসুর রাহমানের মতো প্রতিটিবাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বানে এসেছেস্বাধীনতা। অর্জিত এই স্বাধীনতারক্ষা ও এর চেতনা বাস্তবায়নে সবধরণের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে ঐক্যবদ্ধভাবেদেশ গড়ার কাজে ব্রতী হতে হবেআমাদের।

শেষ কথা: আশাকরি আপনি আপনার কাঙ্খিত স্বাধীনতা দিবস রচনা ২০২২ | Independence Day Bangla Essay 2022 এই পোষ্টে পেয়েছেন। আপনি যদি নতুন কোনো পয়েন্ট আবিষ্কার করতে পারেন তবে তা কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button