আন্তর্জাতিকরিভিউ

মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি ২০২২

উন্নত জীবনের আশায় এই দেশের হাজারো নাগরিক স্বপ্ন দেখে বিদেশ যাত্রার। তার মধ্যে অন্যতম চাহিদা থাকে এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত মালয়শিয়ার। এখানে প্রতিবছর যেতে চায় হাজারো উচ্চশিক্ষা বা চাকরি প্রত্যাশিরা। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই সঠিক পথে যেতে পারেন না। মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি ২০২২ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো আজকের এই পোষ্টে ।

পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত না পড়লে আপনকি কিছুই বুঝবেন না। চলুন তাহলে শুরু করা যাক। 

কেন যেতে চান?

মালয়শিয়া যাওয়ার আপনার উদ্দেশ্য কি চাকুরি? নাকি পড়াশোনা? নাকি ভ্রমণ?

মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি গুলো আলাদা আলাদা হবে আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী। আপনাকে আগে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কেন মালয়শিয়া যেতে চান। এবং সে অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে তথ্য। ধাপে ধাপে শর্ত গুলো পূরণের পরই আপনি যেতে পারবেন আপনার স্বপ্নের দেশে।

Read More:   মালয়েশিয়া কাজের বেতন কত জেনে নিন (নতুন আপডেট ২০২২)

সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায়

মালয়শিয়া শ্রমিক চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লক্ষাধিক শ্রমিক পাঠানো হয়। বাংলাদেশ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় পাঠানো হয় এই শ্রমিক। সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি নিম্নরুপ: 

  • আপনার ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট সাইটে। নিবন্ধনের সময় নিজে উপস্থিত থাকতে হবে। নিবন্ধনের জন্যে ৩ দিন সময় দেয়া হয়।
  • নিবন্ধনের জন্যে যোগ্য প্রার্থীর বয়স অবশ্যই ১৮-৪৫ এর মধ্যে,ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি, ২৫ কেজি ওজন উত্তলনের মত শক্তিশালী হতে হবে। উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৫ ফিট।
  • নিবন্ধনের নোটিশ নির্দিষ্ট সময়ে শ্রম মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
  • লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে মেসেজ যাবে। মেসেজে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য থাকবে। পরবর্তী কাজ সে অনুযায়ী কর‍তে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি

উচ্চশিক্ষার জন্যে এশিয়ার দেশ গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে মালয়শিয়া। কারণ এখানে রয়েছে স্বল্প খরচে পড়ার ও কাজ করার সুযোগ। স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি:

  • আপনি যদি স্কলারশিপে মালয়েশিয়া যেতে চান তবে আপনার থাকতে হবে একাডেমিকে ভালো রেজাল্ট। একটি ভালো মানের রেজাল্ট দিয়ে খুব সহজে মালয়েশিয়াতে ফুল ফি স্কলারশিপ পাওয়া যায়। এছাড়া পুরোপুরি না হলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ স্কলারশিপ আপনি পেতে পারেন। তবে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা চাই।
  • সাধারণত আন্ডারগ্রেজুয়েট,গ্রেজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএচডি প্রোগ্রামে মালয়শিয়ায় পড়তে চায় স্টুডেন্টরা।
  • আপনি যে কোর্সে যেতে চান তা কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় তা জেনে এপ্লাই করলে তারা যদি কনফার্রমেশন লেটার পাঠায় তাহলে তা শো করে আপনি এম্বেসি থেকে ভিসা নিতে পারেন।
  • মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্যে ইংরেজিতে দক্ষতা আবশ্যক। এছাড়া মালয়েশিয়ার ভাষা জানা থাকলে তা কাজ করবে প্লাস পয়েন্ট হিসেবে।
  • ভিসা পাওয়ার পর টিউশন ফী জমার জন্যে আপনাকে অপেক্ষা কর‍তে হবে কমপক্ষে ১ সপ্তাহ৷ তারপর আপনি আপনার সেশন অনুযায়ী যাত্রা শুরু কর‍তে পারবেন।
  • সাধারণত মালয়েশিয়াতে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর সব মিলিয়ে বার্ষরিক খরচ হয় ২৭০০ থেকে ৩০০০ ডলার অব্দি।
  • এছাড়া কোন সেমিস্টারে এক সপ্তাহের বেশি সময় ছুটি পেলে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘন্টা সময় পাওয়া যাবে পার্ট টাইম জবের।
Read More:   মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে ২০২২ (নতুন আপডেট)

অন্য কোন উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে

সাধারণত মালয়শিয়া দু’ধরণের ভিসা পাওয়া যায়: 

  1. রেফারেন্স দিয়ে।
  2. রেফারেন্স বিহীন।

রেফারেন্স ভিসাঃ এই ক্ষেত্রে রেফারেন্স দিয়ে কেউ আপনাকে নিয়ে যেতে পারে, এটা হতে পারে কোন কোম্পানি। তবে সেক্ষেত্রে অবস্থানের অনুমতি ৩০ দিন এবং তার মেয়াদ বাড়ানোর সু্যোগ নেই।

সাধারণত ব্যবসা বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্য মালয়শিয়া যেতে চাইলে এই ভিসায় যাওয়া যায়। মালয়শিয়া ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এই ভিসা ইস্যু করা হয়।

রেফারেন্স বিহীনঃ এ ক্ষেত্রে আপনি কোন দেশ থেকে মালয়শিয়া যাচ্ছেন তার ফিরতি টিকেট কাটতে হবে ও দেখাতে হবে। এই ভিসায় ১৪ দিনের বেশি মালয়শিয়ায় অবস্থান করা যাবে না। মালয়শীয় মিশন থেকে এই ধরণের ভিসা ইস্যু করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ মালয়েশিয়া যদি যেতে চান তবে মালয়েশিয়ার দূতাবাস থেকেই ভিসা নিতে হবে। বিমানবন্দর ছাড়া মালয়েশিয়া যাওয়া যায় না। যদিও বর্তমানে সমুদ্র পথে দালাল দ্বারা যাওয়ার চেষ্টা করা হয় অবৈধ পথে, তা না করাই জীবন এবং জীবিকার জন্যে উত্তম। কারণ এই পথ বিপদজনক, আবার ধরা পড়লে ফেরত আসতে হবে নিশ্চিত। অবশ্যই সঠিক উপায়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করুন । সফলতা আসবেই। 

যা ডকুমেন্টস লাগবেঃ

  • পরপর তিনটি খালি পৃষ্ঠা আছে, কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট।
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এ দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • আগে মালয়শিয়ায় ভ্রমণ করে আসলে ভিসার কপি, পাসপোর্টের অরিজিনাল ও ফটো কপি।
  • ফিরতি বিমানের টিকেট বা যে প্রতিষ্ঠান আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের রেফারেন্স কপি।
  • কমপক্ষে ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

মালয়শিয়া একটি মুসলম প্রধান দেশ। এখানে খাবার এবং জীবন যাত্রার মান ভালো তাই আপনি আপনার সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্যে এখানকার উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে পড়াশোনা করে কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশেও যেতে পারেন। এখানে রয়েছে যথেষ্ট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। এ সম্পর্কিত আরো পোষ্ট পড়তে ভিজিট করুন প্রবাস ক্যাটাগরী। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button