পড়াশোনামাধ্যমিক/ উচ্চ মাধ্যমিক

সপ্তম (৭ম) শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ৩য় সপ্তাহ ২০২২

৭ম শ্রেণীর বাংলা এসাইনমেন্ট সমাধান 2022 তৃতীয় সপ্তাহের

আপনি কি সপ্তম (৭ম) শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমাধান ২০২২ ৩য় (তৃতীয়) সপ্তাহ ১০০% নির্ভুল অনুসন্ধান করে চলেছেন? তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাত অধিদপ্তর থেকেত আপনাদের তৃতীয় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে ।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ৩য় সপ্তাহ ২০২২

বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট সপ্তম (৭ম) শ্রেণির ২০২২ ৩য় সপ্তাহ

উপরোক্ত চিত্রের মাধ্যমে আপনি দেখতে পাচ্ছেন সপ্তম শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমাধান ২০২২ এ কি কি বিষয়াবলী রয়েছে। এবার আমরা সমাধান দেখে নিই।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর তৃতীয় সপ্তাহ ২০২২

ইতিমধ্যে আপনার কাঙ্খিত বাংলা এসাইনমেন্টের উত্তর সমাধান ২০২২ ৩য় (তৃতীয়) সপ্তাহ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান এখান থেকে শুরু হচ্ছে।

শিরোনাম: ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিচয়

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ধারণা

এথনিক জাতিসত্তা হচ্ছে নিজস্ব পরিচিতি সম্পন্ন জনসম্প্রদায় বা বর্গ। তারা ভাষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদির আলোকে বিশেষ পরিচিতি বোধ করে এবং অনুরূপ সম্প্রদায় থেকে নিজেদের পৃথক করে থাকে। রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও ভাষা এথনিক গ্রুফের মানুষজনের মধ্যে অটুট বন্ধন সৃষ্টি করে। নিজেদের বন্ধন ও অন্যান্য জন গোষ্ঠী থেকে পার্থক্য এথনিক গ্রুফের মানুষের মনে সম্প্রদায় চেতনা জাগ্রত করে। 

সাংস্কৃতিক উৎসবের ধারণা

উপজাতিরা এক উৎসব প্রিয় জাতি। জন্মের পর থেকেই ধর্মীয়, সামাজিক এবং ঋতু ভেদে বিভিন্ন উৎসব আনন্দে মেতে উঠেন তারা। উৎসব মুখর জীবন যাপন করে সারাজীবন। নিজ নিজ ধর্ম অনুসারে তাদের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন উৎসব। উৎসব রয়েছে নতুন বছর কে কেন্দ্র করেও। পুরাতন বছর কে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিরা বৈসাবি পালন করে। মহাআনন্দে কাটায় এ উৎসবটি। ত্রিপুরাদের বৈইসুক, মারমাদের সাংগ্রাই এবং চাকমাদের বিজু উৎসব কে একত্রে বৈসাবি বলা হয়। বৈসাবি নিয়ে তো আমরা কম বেশি অনেকেই জানি। তবে আমরা উপজাতিদের অন্যান্য উৎসব সম্পর্কে কতটুকু অবগত? উপজাতিদের হাজারো উৎসব থেকে কিছু কিছু উৎসব সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। 

কারাম উৎসব :

সাঁওতাল, ওঁরাও, মালো, মুন্ডা, মাহাতো, ভুইমালি সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে। ‘কারাম উৎসব’ নামক একটি বড় পূজা করে তারা। এটি তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই পূজার রীতিনীতি হচ্ছে কারাম গাছের ডালকে ঘিরে। কারাম নামক গাছের ডালকে ঘিরে এ পূজা হয় বলে এই উৎসবকে ‘ডাল পূজা’-ও বলা হয়।

ঋতু ভেদে উৎসব :

সাঁওতালরা বারো মাসে তেরো উৎসব পালন করে। এক কথায় এরা উৎসব মুখর জাতি। তাদের নতুন বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। নববর্ষে পালিত হয় বাহা উৎসব। নাচ গান করে আগমন করে নতুন বছরের। এছাড়াও এরা প্রতি ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে। যেমন-  চৈত্র মাসে পালন করে বোঙ্গাবোঙ্গি, বৈশাখে হোম, জ্যৈষ্ঠমাসে এরো, আষাঢ় মাসে হাঁড়িয়াও, আশ্বিনে দিবি, পৌষ শেষে সোহরাই। বসন্তে তারা পালন করে ফুলফোটা উৎসব। বসন্ত উৎসবে তরুণ তরুণীরা তাদের সঙ্গী নির্বাচনের সুযোগ পায়। বিয়েতে কনেকে পণ দেয়ার প্রচলন রয়েছে। যদিও তা খুব সামান্য পরিমাণের হয়ে থাকে। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত মেয়েদের পুরনায় বিয়ে করার প্রচলন রয়েছে সাঁওতাল সমাজে।

সোহরাই উৎসব  

সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর একটি আকর্ষণীয় উৎসব হচ্ছে সোহরাই উৎসব।  তাদের জীবনে প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই  তাদের গৃহপালিত পশুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য সোহরাই উৎসব পালন করে এই আদিবাসী সম্প্রদায়। সোহরাই উৎসবের দিন সাঁওতাল গ্রামের মহাজনরা সভা ডেকে আগে থেকে দিন নির্ধারণ করে।  তবে পৌষ বা মাঘ মাসের দিকে এই উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসবের একটি রীতি হচ্ছে সাঁওতাল মেয়েরা তাদের বাপের বাড়ি যাওয়ার নেমত্তন পায়। এ দিনটি তারা নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে গেয়ে পালন করে।

রাখাইন উৎসব 

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা জন্মান্তরবাদ ও কর্মবাদে বিশ্বাসী। রাখাইন আদিবাসীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। এছাড়াও  আশ্বিনী পুর্ণিমা,কঠিন চীবর দান উৎসব এবং আষাঢ়ী পূর্ণিমার মত ধর্মীয় অনুষ্ঠান এরা পালন করে থাকে। রাখাইনদের বর্ষবরণের উৎসবকে বলা হয় সাংগ্রেই। টানা চার দিন ব্যাপী তাদের এই অনুষ্ঠান চলে। রাখানদের এই নবান্ন উৎসবে যাত্রা হয়, খেলা হয় জলকেলি। বছরের নতুন দিনের আনন্দে তৈরি হয় নানা রকমের পিঠাপুলি, বিন্নি ধানের ভাত এবং কাঁচা কচি ধানের চিড়া।

গারো উৎসব :

গারোদের বেশ কিছু উৎসবের মধ্যে আগাল মাক্কা বা আচিরক্কা, রংচু গাল্লা, জামে গাপ্পা-আহাওয়া, ওয়ানগালা অন্যতম। গারো সমাজে সন্তান জন্মদান পুরো গ্রামের জন্যে উৎসবের আমেজ থাকে। সবাই ওইদিন ‘চু-জাঙ্গি’ মদ পান করে। তাদের পালিত ওয়ানগালা উৎসবটি বেশ আকর্ষণীয়।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পরিচয় দিতে হবে

বাংলাদেশে পঁয়তাল্লিশটির মত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আছে। যেমন চাকমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, মান্দাই, মনিপুরী, খাসিয়া ইত্যাদি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অবস্থান প্রান্তিক। এথনিক গ্রুফ গুলোর প্রতি আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। এথনিক গ্রুফ গুলোর ভাষা ও অর্থনীতি হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এথনিক গ্রুফের রাষ্ট্র কর্তৃক আক্রমণের শিকার হয় আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পর। আধুনিক রাষ্ট্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির অধিকারের প্রশ্ন সামনে আসে। কিন্তু রাষ্ট্র জাতীয় সংহতির প্রশ্নে খুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির উপর আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট হয়ে উঠে।

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক উৎসবের বিবরণ দিতে হবে

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলি সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রেও অনেক সমৃদ্ধ। ঐতিহ্যগতভাবে তারা প্রকৃতি প্রেমিক। নিজেদের জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে সাযুজ্যময় করে ও প্রকৃতি থেকে প্রাণরস নিয়ে রচিত হয় তাদের শিল্পকর্ম। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আবালবৃদ্ধ বনিতা সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণউৎসবে মাতোয়ারা হয়ে যাওয়া। এজন্য বাঙ্গালীরা মনে করে তারা অনেক “আমোদপ্রিয়”। ঢাক, ঢোল, ঝাঁঝর, সানাই বাজিয়ে তারা উৎসবে মেতে উঠেন সংস্কৃতিক উৎসব গুলোতে।

চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব উদযাপিত হয় চৈত্রমাসের শেষ দুই দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন। পুরাতন বছরকে বিদায় জানানোর ও নতুন বছরকে আহŸান জানানোর উৎসবে পানাহার, ঘুরে বেড়ানো, আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাত, নাচ-গান ও সকলে একত্রে আনন্দ করার জন্য উৎসব সাজানো হয়। চাকমাদের এই উৎসবের নাম ‘বিজু’। মারমাদের উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’ ও ত্রিপুরাদের উৎসবের নাম ‘বৈসুক’। বর্তমানে যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির ঐক্য রাজনৈতিক দাবী আদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তখন এই উৎসব উদযাপনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই তিনটি গোষ্ঠী এখন একত্রে ‘বৈসাবি’ নামে উক্ত উৎসব পালন করে।

মনিপুরীদের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হচ্ছে বিষ্ণুপ্রিয়া হোলি উৎসব। এ উৎসবটি উদযাপিত হয় চৈতন্য দেবের জন্ম উপলক্ষে। ১১৮৬ সালে ফান্ডুন মাসের দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় চন্দ্র গ্রহণের সময় তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। মনিপুরীদের আদি অপ্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ‘আপোকপা’ এর বিশ্বাসের সঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম সংযোজিত হয়ে মিশ্র ধর্ম বিশ্বাসের জন্ম হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরীদের জীবনে কৃষ্ণপ্রেমই ঈশ্বরের সাধনা। আর চৈতন্যের জন্ম তিথিতে বাঁশ ও খড় দিয়ে তারা তৈরী করেন ঘরের ভিতর আরেকটি ছোট ঘর। এই ঘরের ভিতর ঘর চৈতন্যের ঘরের প্রতীক। এটি মনিপুরীদের গার্হস্থ্য জীবনের প্রতীক। পাঁচদিন ধরে মনিপুরীগণ ছোট বড়, নারী পুরুষ সকলে একত্রে আনন্দ উল্লাস ও রং খেলায় মেতে থাকেন।

ওঁরাওদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘কারাম উৎসব’। একটি পাতাময় গাছ পুতে তার নীচে ডুমুর, সুপারী, জল, মানকচু, দুধ, চিড়া দিয়ে তারা প্রকৃতির পূজা করেন। সাতদিন ধরে জনগোষ্ঠীর সকলে নাচে গানে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যান। আর সাত ভাইয়ের কাহিনী শোনেন। সাতভাই এর বড় ভাই কারাম ধারাম বাড়ীতে বসে না থেকে বাণিজ্য করতে যান ও সাতদিন পর ফিরে আসেন। ‘কর্মকে ধর্ম জ্ঞান করা’ ওঁরাওদের জীবন দর্শন। এটিই ওঁরাওদের ধর্ম। অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবিকা ছিল শিকার। বনাঞ্চলের উপর তারা নির্ভরশীল ছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষজন প্রকৃতি প্রেমিক।

আশাকরছি আপনি ইতিমধ্যে সপ্তম (৭ম) শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমাধান ৩য় সপ্তাহ ২০২২ পেয়েছেন। কোনো মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

সপ্তম শ্রেণীর সকল এসাইনমেন্টের সমাধান পেতে নিচের লিঙ্কে চাপুন।

Read More:   সপ্তম (৭ম) শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ ৩য় (তৃতীয়) সপ্তাহ (সমাধান সহ)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button