স্বাস্থ

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ (তিন) মাসের সতর্কতা সম্পর্কে জানুন

মাতৃত্ব পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি ও দায়িত্বের নাম। সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে প্রসব পর্যন্ত তাই মা ও পরিবারকে থাকতে হয় সর্বোচ্চ সর্তক। কারণ সামান্যতম ভুলের জন্যে হয়ে যেতে পারে মা ও সন্তানের বড় কোন সমস্যা। গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ (তিন) মাসের সতর্কতা ও খাবার তালিকা সম্পর্কে আপনি অবশ্যই জ্ঞাত থাকা প্রয়োজন।

মূলত গর্ভকালীন সময় কে তিন ভাগ করা হয়, শেষ ২৮ সপ্তাহ থেকে প্রসবকালীন সময় পর্যন্ত সময়কে তৃতীয় ট্রাইমেস্টার বলা হয়। এই সময় যে সর্তকতা অবলম্বন করতে হয় তা হলোঃ

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসের সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসে খাবার, শারীরিক এবং মানসিক সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যান্ত জরুরী । এই সময়ের মধ্যে কোন ধরণের খাবার খাওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এই ব্লগে। ব্লগটি (Caution for the last 3 months of pregnancy) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো।

 গর্ভাবস্থায় খাবারের সর্তকতা

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসের সতর্কতা সম্পর্কে বলতে গেলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে এ বিষয়ে অবশ্যই আলোচনা আসে।  পুরো গর্ভকালীন সময়ে খাবার নিয়ে থাকতে হয় সর্তক,কারণ যে কোন খাবার নয় বরং পুষ্টিকর এবং ঝুঁকিহীন খাবারই দিতে পারে সুস্থ মা ও সুস্থ সন্তানের নিশ্চয়তা। শেষ সময়ে তাই আরো বেশি সর্তকতা মানতে হয়, এই সময় যে যে খাবার এড়িয়ে যাবেন-

Read More:   হার্ট দুর্বল লক্ষণ, যেভাবে বুঝবেন আপনি হার্টের সমস্যায় ভুগছেন

গর্ভাবস্থায় যে ধরণের খাবার খাওয়া উচিৎ নয়

১.চা-কফি ক্যাফেইন জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। কারণ শেষ সময়টায় ঘুম কমে যায়,ক্যাফেইনের ফলে মা আরো জেগে থাকতে পারেন যার কারণে সন্তানের ওজনের তারতম্য হতে পারে।

২.অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে,কেননা গর্ভকালীন সময় হতে পারে ডায়াবেটিস , যা পরবর্তীতে স্থায়ী ডায়াবেটিস এর কারণ হতে পারে।

৩.লবণের ব্যাপারে হতে হবে সর্তক, কারণ উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া পায়ে পানি আসার কারণও হতে পারে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার।

৪.এসময় এড়িয়ে যেতে হবে তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্টফুড। এতে মায়ের ওজন বেড়ে যেতে পারে হতে পারে পেটে গ্যাসের সমস্যা৷

৫. পুরো গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ কিছু ফল কম খাওয়া বা না খাওয়াই ভালো। যেমনঃ কামরাঙা, আনারস এবং পেঁপে। এসব ফলে এমন কিছু এনজাইম বিদ্যমান যা হতে পারে ভ্রণের জন্যে ক্ষতির কারণ৷

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের জন্যে অবশ্যই ব্যবস্থা করতে হবে পর্যাপ্ত ক্যালরিপূর্ণ খাবার এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। তাই যে যে খাবার খেতে হবেঃ

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসের খাবার তালিকা

১.দৈনিক একজন মহিলার ২২০০ ক্যালরি খাবারের প্রয়োজন হয় কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে আরো কমপক্ষে ২০০-৩০০ ক্যালরি খাবার বেশি খেতে হয়। শেষ সময়টা শরীরের উপর চাপ বেশি থাকে তাই খেয়াল রাখতে হবে আরো বেশি। গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসের সতর্কতা হিসেবে খেতে হবে নিম্নোক্ত পুষ্টিকর খাবারঃ

২.এই সময় শুকনো খেজুর, বাদাম জাতীয় ড্রাইফ্রুট বাড়তি ক্যালরির জোগান দেয়।

৩. আয়রনের জন্যে খেতে পারে কলা,হাড়ের মজ্জা, ডাবের মত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার।

Read More:   চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায় এবং ড্রপ

৪.শেষ সপ্তাহ গুলোতে পানির প্রতি হতে হবে বিশেষ মনোযোগী। এই সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে।

৫.প্রসবকালীন সময়ের আগে অনেকের দেখা দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য, তাই প্রচুর পানি পান করার সাথে সাথে হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য আদা দিয়ে খেলে উপকার হয় বেশ।

৬.এছাড়া শাকসবজি ও আঁশজাতীয় খাবার এই অবস্থায় সব থেকে বেশি খাওয়া প্রয়োজন, এর ফলে সন্তানের উপযোগী পুষ্টি যেমন আসবে তেমনি মুক্তি পাওয়া যাবে গর্ভকালীন নানা জটিলতা থেকে

শারিরীক সর্তকতাঃ

আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি এখন দুজন, আপনার শরীরের বেড়ে উঠছে আরেকটা আপনি, শেষ ট্রাইমেস্টারে শরীর জুড়ে শুরু হয় নানা অশান্তি তাই দ্বিতীয় আপনার ভালো থাকার জন্যে এই সময় শারীরিক নানা বিষয় সর্তক থাকতে হয়। যেমনঃ

১.এই সময় উঠা বসা অনেক কষ্টের। হতে পারে কোমড়, ঘাড় এবং জরায়ু নানা অস্বস্তি। তাই শোয়া-বসার নানা পজিশনে রাখতে হবে খেয়াল৷ এই সময় দীর্ঘক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে বা বিশেষ কোন পজিশনে বসলে পা ফুলে যেতে পারে, এর কারণ এই সময়টায় শরীরে অতিরিক্ত পানির সরবারাহ এবং হরমোনাল পরিবর্তন। তাই বসার ক্ষেত্রে থাকতে হবে সর্তক।

২. খুব বেশি সময় একটানা বসে না থেকে হাল্কা ব্যায়াম এবং হাঁটাহাঁটি করা উত্তম৷ এই সময় অনেকেই কাজ ছেড়ে দিয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে চান, তা না করে সাধারণ ফিজিক্যাল এক্টিভিটি রাখতে হবে।

৩.করতে হবে নিয়মিত ব্যায়াম। এছাড়া শোয়া থেকে উঠায় সমস্যার ক্ষেত্রে নিতে পারেন পরিবারের লোকজনের সহায়তা।

৭.এসময় ভারি কিছু কাজ এড়িয়ে যেতে হবে অবশ্যই। যেমন,ভারি কোন জিনিস উত্তলন, ধানমাড়াই, দীর্ঘক্ষণ কোন কাজে সময় দেয়া, দীর্ঘ ভ্রমণ ইত্যাদি।

Read More:   ১০+ হার্টের সমস্যার লক্ষণ সম্পর্কে জানুন

৮.শেষ সময় ডাক্তার যে পরীক্ষা গুলো দিবে তা অবশ্যই করে রাখা ভালো। এসময় বাচ্চার পজিশন জানা এবং শারিরীক অবস্থা জানা জরুরি। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে সময়মত।

মানসিক সর্তকতাঃ

গর্ভাবস্থায় শেষ ৩ মাসের সতর্কতা  হিসেবে মানিসিক বিষয়টাকে এড়িয়ে যাবেন না কোনো ভাবেই।  শেষ সময়টায় অর্থাৎ শেষ একমাস অনেকেরই মনে হয় এই গর্ভাবস্থা বুঝি আর শেষ হচ্ছে না,সারাজীবন ব্যাপি দীর্ঘ! তাই মানসিক ভাবে অনেকেই হয়ে যান খিটখিটে এবং হতাশ।  এই সময় যা করতে হবেঃ

১ পরিবারের লোকজনের উচিত গর্ভবতী মায়ের যথেষ্ট খেয়াল রাখা এবং ভরসা দেয়া। গর্ভবতী কে উৎফুল্ল রাখা।

২.মায়ের নিজেরও উচিত মনবল না হারিয়ে সন্তানের আগমনের চিন্তা করে নিজের মানসিক দিকের খেয়াল রাখা। এর জন্যে যা কিছু মানসিক তৃপ্তি এনে দেয় তা করার চেষ্টা করা।

৩.অতিরিক্ত স্ট্রেস এর কারণে এবং শারিরীক অস্বস্তির কারণে ঘুম কমে যায়,যা এই সময়টা প্রবল হয়। এই সমস্যা যাতে সন্তানের উপর প্রভাব ফেলতে না পারে তাই সর্তকতার সাথে দুঃশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। আপনার মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে এমন ব্যাপার এড়িয়ে যেতে হবে।

উপসংহার

সর্বপরি সুস্থ মা এবং সুস্থ সন্তানের জন্যে শুধু শেষ ৩ মাসই কেবল নয়,পুরো গর্ভকালীন সময়ে থাকতে হবে শরীর ও মনের প্রতি সর্বোচ্চ যত্নশীল। তাহলেই কেবল আমরা পাবো সুস্থ মা ও সুস্থ সন্তান। এই ধরণের আরো পোষ্ট পেতে ভিজিট করুন স্বাস্থ ক্যাটাগরিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button