স্ট্যাটাস/ উক্তি

বাবা দিবস কি? কবে এবং কেন বাবা দিবস পালিত হয়?

প্রায় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকেই এই বাবা দিবস টি পালিত হয়ে আসছে। একজন মা তার সন্তানদের প্রতি যে ভালবাসার প্রকাশ করে, সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে দায়িত্বশীলতার দিক থেকে বাবার অংশও কোন ভাবেই কম নয়। আর সেটি বোঝানোর জন্যই মূলত মা দিবস এর পাশাপাশি প্রতি বছরের ন্যায় গোটা বিশ্ব জুড়ে 19 শে জুন বাবা দিবস পালিত হয়ে আসছে। যার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রত্যেকটি বাবাকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানানো হয়।

আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষকে খুঁজে পাবেন যারা মূলত এই ধরনের বাবা দিবস কিংবা মা দিবস গুলো কে তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না। আর আমি তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলতে চাই যে, এই দিবস গুলো কে কখনোই অবহেলা করা ঠিক না। কারণ পৃথিবীতে যদি আপনার বাবা মা বেঁচে না থাকতো। তাহলে কিন্তু আপনাকে কোনো অনাথ আশ্রমে জীবন ধারণ করতে হতো।

আমার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা পূর্বের আর্টিকেল গুলো তে মা দিবস কি এবং মা দিবস নিয়ে বেশ কিছু স্ট্যাটাস শেয়ার করেছি। আশা করি মা দিবস নিয়ে লেখা সেই আর্টিকেল গুলো আপনার অনেক ভালো লেগেছে। আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আজকে আমি বাবা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে পারবেন যে বাবা দিবস কি, কবে বাবা দিবস পালিত হয়,  এবং বাবা দিবস এর ইতিহাস সম্পর্কে। যদি আপনার মধ্যে বাবার প্রতি অপার ভালোবাসা থাকে। তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেন। তো চলুন এবার তাহলে সরাসরি মূল আলোচনা তে ফিরে যাওয়া যাক।

বাবা দিবস কি? | What is Father’s Day?

বাবা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে আপনাকে জেনে নিতে হবে যে আসলে এই বাবা দিবস কি। কারণ যখন আপনি এই বিষয়টি জানতে পারবেন তখন আপনার পরবর্তী আলোচনা গুলো বুঝতে সুবিধা হবে। তো চলুন এবার বাবা দিবস কি তা জেনে নেয়া যাক।

বাবা হল সেই মানুষটা যিনি নিজের সকল সুখকে বিসর্জন দিয়ে পরিবারের সব মানুষের সুখের কথা চিন্তা করেন।  আর বাবা নামক এই মানুষটি তার সারাটি জীবন কোন প্রকার প্রয়োজন বা স্বার্থ ছাড়াই একেবারে নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়ে যান। আর সে কারণেই আমাদের প্রত্যেকটা সন্তানের উচিত তার নিজের বাবাকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্মান ও শ্রদ্ধা দেওয়া।

আর পৃথিবীতে থাকা প্রত্যেকটি বাবার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি দিন পালিত হয়। যে দিবসটি কে বাবা দিবস হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে। আর বিশেষ এই দিবস কে বলা হয়, বাবা দিবস।

বাবা দিবস কবে পালিত হয়? 

তো উপরোক্ত আলোচনা গুলো জানার পরে আপনার মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে পারে। সেটি হলো বাবা দিবস 2022 কবে পালিত হবে। আর যদি আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তাহলে নিচের আলোচনা গুলোতে একটু নজর রাখুন। তাহলে আপনি জানতে পারবেন যে বাবা দিবস ২০২২ কবে পালিত হবে। 

সাধারণত প্রতি বছরের ন্যায় পুরো বিশ্বব্যাপী বাবা দিবস পালিত হয়ে আসছে। আর সেই দিক থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই আমাদের বাংলাদেশ। কারন আমার বাংলাদেশি মানুষরাও নিজের বাবাকে নিয়ে যথেষ্ট পরিমান শ্রদ্ধা এবং সম্মান করতে জানি। তাই এই দিনটি ও আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর আমাদের বাংলাদেশে বাবা দিবস ২০২২ পালিত হবে 20 শে জুন। আর এই বিশেষ দিনটি তে আপনি অবশ্যই আপনার বাবার সাথে ব্যয় করবেন। আপনার মনের লুকায়িত কথাগুলো শেয়ার করবেন আপনার বাবার সাথে। তাহলে দেখতে পারবেন যে, এতদিন যে মানুষটা কে সবচেয়ে রাগী হিসেবে দেখে এসেছেন। সেই মানুষটার হৃদয় কতটা কোমলতায় ভরপুর।

বাবা দিবস এর ইতিহাস | History of Father’s Day

উপরের আলোচনা থেকে আপনি জানতে পারলেন যে বাবা দিবস কি এবং কবে বাবা দিবস পালিত হয়। আশা করি সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনি পরিষ্কার ধারণা পেয়ে গেছেন। তো এবার আপনাকে জেনে নিতে হবে যে বাবা দিবস এর ইতিহাস সম্পর্কে। চলুন এবার তাহলে History Of Father’s Day জেনে নেয়া যাক।

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে বিগত কয়েক’শ বছর আগে থেকে মা দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আপনি যদি মা দিবসের সঙ্গে বাবা দিবসের তুলনা করেন, তাহলে একটা বিষয় দেখতে পারবেন। সেটি হলো বাবা দিবস কিন্তু এত আগে থেকে পালন করা হতো না। কেননা বাবা দিবস বিগত কয়েক বছর থেকে পালিত হয়ে আসছে।

আর একটা বিষয় জেনে রাখা ভাল যে এই বাবা দিবস এর সর্বপ্রথম সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। আর এই দিবস টি পালনের পেছনে মজার একটা গল্প আছে। যদি আপনি বাবা দিবস এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই গল্পটি শুনতে হবে।

বাবা দিবস নামের এই বিশেষ দিনটির সর্বপ্রথম সূচনা করেন সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের একজন নারী। তিনি মূলত ওয়াশিংটন এর স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা-মা যখন ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দেয় তখন তার মা মারা যায়। আর এরপর থেকেই ওই পরিবারের সকল সন্তানদের লালন পালন করার দায়িত্ব তার বাবা একাই পালন করেন। 

এরপরে সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের ওই নারীটি 1909 সালে মা দিবসের কথা জানতে পারে। আর সে কারণেই ওই মহিলাটির মাথায় বাবা দিবস পালিন করার কথা চিন্তা করেন। এরপর তিনি স্থানীয় ধর্মযাজকদের কাছে বাবা দিবস পালন করার কথা বলেন। এবং সেই ধর্মযাজকরা ওই মহিলার কথায় সম্মতি প্রদান করে। আর তারপর থেকেই বাবা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বাবা দিবস নিয়ে কিছু অজানা তথ্য 

উপরের আলোচনা থেকে আপনার বাবা দিবস নিয়ে অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এবার আমি এই বাবা দিবস নিয়ে কিছু অজানা ফ্যাক্ট শেয়ার করবো। যেগুলো বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ জানে না। তো চলুন এবার তাহলে সেই অজানা ফ্যাক্ট গুলো সম্পর্কে জানা যাক।

  1. Fact-1: বাবা দিবস গোটা বিশ্বে পালিত হলেও প্রতিটি দেশে আলাদা আলাদা তারিখে এ দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
  2. Fact-2: বাবা দিবসের কার্ড বিক্রির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান রয়েছে চতুর্থ পর্যায়ে। কারণ বিশেষ এই দিবসটি কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর 7 কোটি 20 লাখ কার্ড বিক্রি হয়ে থাকে।
  3. Fact-3: সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই দিবসটি কে ঘিরে যে কার্ড গুলো তৈরি করা হয়। সেগুলোর 50% বাবারা উপহার হিসেবে পান। আর 25% কার্ড কেন হয় অন্য কাউকে দেওয়ার জন্য।
  4. Fact-4: উইড্রো উইলসন নামের একজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সর্বপ্রথম 1916 সালে বাবা দিবস কে পালন করার অনুমতি প্রদান করেন।  এবং পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ 1924 সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবস কে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

তো এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ধরনের বাবা দিবস এর অজানা ফ্যাক্ট আছে। যদি আপনি সেই অজানা ফ্যাক্ট গুলো কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

বাবা দিবস নিয়ে কিছুকথা 

শুরুর দিকে বাবা দিবসের এতটা জনপ্রিয়তা না থাকলেও ক্রমাগত ভাবে বর্তমান সময়ে বাবা দিবসকে বেশ জাঁক জমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় আসছে। আর একজন প্রকৃত সন্তান হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এই বিশেষ দিনটিতে নিজের বাবাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করা।

আশা করি আপনি একজন প্রকৃত সন্তান হিসেবে এই বিশেষ দিনটি আপনার বাবার সাথে ব্যায় করবেন। এবং নিজের বাবার কাছে আপনার ভেতরে থাকা অনুভূতিকে শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button