ব্লগ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষণ ২০২২ (মঞ্চ কেঁপে উঠবে 😱)

হেই ব্রো! আপনি যদি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষণ ২০২২ অনুসন্ধান করে থাকেন তবে এক্কেরে সঠিক জায়গায় চলে এসেছেন। নিম্নোক্ত ভাষণ অবলম্বনে নিজের আইডিয়া  এবং অনুধাপনকে বাড়িয়ে তুলুন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষণ

সম্মানিত সভাপতি, মাননীয় প্রধান অতিথি, উপস্থিত সুধিমন্ডলী, জাতীয় জীবনে, “ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” বিষয়ে আয়োজিত আজকের এই আলোচনা সভার শুরুতে আপনাদের প্রতি আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। একুশ মানেই হলো- পরাশক্তির কাছে মাথা নত না করা। একুশ একটি বিদ্রোহ, বিপ্লব ও সংগ্রামের নাম। ‘একুশ’ হল মায়ের ভাষায় ভাষায় কথা বলার জন্য রাজপথ কাপানো মিছিল, স্লোগান, আন্দোলনে মুখরিত একটি মুহূর্ত। এই দিনে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা তাদের বুকের তাজা রক্তে পিচ ঢালা রাজপথে সিক্ত করে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার কে আদায় করেছে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীয় কবল থেকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এদেশের জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যবহ দিন। আর একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেই বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা ঘটে এবং শোষণ ও পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয় এদেশ ও জাতি।

সম্মানিত সুধিবৃন্দ, বাংলা নামক দেশটি বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তন্মধ্যে প্রথম এবং অন্যতম কারণ হল ভাষার জন্য সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বিপ্লব পৃথিবীর অন্য কোন এসে সংঘটিত হয়নি। ইতিহাসে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রত্যেক জাতিই জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত ভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলে এবং মনের ভাব প্রকাশ করে। ভৌগলিক স্বাধীনতা না থাকলেও ভাষার স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার কিন্তু বিশ্ববাসী বিষ্ময়বিভুতচিত্তে অবলোকন করেছে। জন্মগত অধিকার মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলার ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, পেশাজীবী, কৃষক, মজুর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের লেলিয়ে দেয়া পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ অসংখ্য তাজা প্রাণ। রক্তের বন্যায় সিক্ত হয়েছে বাংলা মায়ের বুক।

‘আমরা জানি, ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয় এবং সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয় ঘটে। উভয় পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি শুরু থেকেই বৈষম্য নীতি ও শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রথমেই তারা চক্রান্ত করে বাঙালির প্রাণ প্রিয় ভাষা “ বাংলা” কে নিয়ে। অবিভক্ত পাকিস্তানের শতকরা ৫৮ অধিবাসের মুখের ভাষা ছিল “ বাংলা”। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা প্রাধান্য পাবে এটাই ছিল স্বাভাবিক। পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথমে দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু শাসকচক্র বাঙালির প্রাণের দাবীর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে।

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলের অনুষ্ঠানেও তিনি এ ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার এক জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী। গঠিত হয় “ তমদ্দুন মজলিস” ও “ ভাষা সংগ্রাম পরিষদ”। সর্বস্তরের বাঙালির অংশগ্রহণে মিছিল, মিটিং স্লোগানে মুখরিত হয় বাংলার আকাশ বাতাস এবং তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি। অনেক, অনেক রক্ত, অনেক প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলা। শেষ পর্যন্ত শাসকগোষ্ঠী বাংলা কে পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানে বাধ্য হয়।

ইতিহাস এখানেই শেষ হয়নি। একুশকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টা। ৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ৬২ সালের ছাত্র অভ্যুত্থান, ৬৬ সালের ৬ দফা ভিত্তিক আন্দলোন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭০- এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির অভাবনীয় সফলতা একুশকে কেন্দ্র করেই অর্জিত হয়েছে। মূলত একুশকে কেন্দ্র করেই বাঙালি সংগঠিত হয়েছে এবং আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের কৌশল রক্ত করেছে।যার ফলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। তাই জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই একুশের তাৎপর্য অপরিসীম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, সাহিত্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ চেতনাবাহী একটি স্মরণীয় দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। এদিন বাঙালি সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। আজ বিশ্ববাসী এ অসীম ত্যাগ ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ এর স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারির সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে লাখো শহীদের নাম, যাদের স্মৃতি চির ভাস্বর ও অনন্তকালের পথ পরিক্রমায় মৃত্যুহীন।

পরিশেষে বলতে চাই, একুশ হোক জগতের সকল অনৈক্য, সংঘাত ও অশান্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতিয়ার, হোক সমুদ্রপথের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অন্ধকার রাতের আশার প্রদীপ, সঠিক পথের দিক নির্দেশক “ পাঞ্জেরী”। সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মত এখানেই শেষ পড়ছি। খোদা হাফেজ।

Read More:   ১০০+ ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ স্ট্যাটাস, উক্তি ও কবিতা
Read More:   ২১ শে ফেব্রুয়ারি ব্যানার, পোস্টার ডিজাইন ২০২২ (নতুন ডিজাইন)

২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষণ

যারা ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষণ দিবেন ভাবছেন আজকের এই কনটেন্ট থেকে সহজেই সেই কাঙ্খিত ভাষণটি পেয়ে যেতে পারেন। আজকের লিখণীতে আমরা সুন্দরভাবে একটি বক্তব্য পেশ করেছি। আশা করি আপনারা মনযোগ সহকারে পোস্টটি পড়বেন। কারন ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে ভাষণ অনেকেই খোজাখুজি করে থাকেন। অনেকেরি হয়তো এ বিষয়ে জানা আছে কিন্তু ভাষণ দিতে সবাই প্রস্তুত থাকে না। তাই আমাদের এখান থেকে দেখে নিলে আপনাদের ভাষণ আরো সহজতর হয়ে উঠবে। আমাদের পোস্ট পড়ার মাধ্যমে আপনারা ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা পেতে পারেন। তাই যথাযথভাবে বুঝতে হলে আমাদের সম্পূর্ণ পোস্ট ভালোভাবে পড়ুন।

শহীদ/ ভাষা দিবস নিয়ে বক্তব্য

প্রিয় ভিজিটর, আপনি কি ২১ শে ফেব্রুয়রারি তে বক্তব্য দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন! তাহলে এই পোস্ট থেকে অতি দ্রুত এবং সহজেই কিছু ধারণা পেতে পারেন। কারণ আমরা গবেষণা করে বাছাইকৃত সেরা বক্তব্য আমাদের পোস্টে লিখেছি। তাই এই পোস্ট থেকে বক্তব্যটি আপনি সহজেই চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। আশা করি বক্তব্যের সহজ ভাষা শ্রোতার মনকে আকৃষ্ট করবে। সুন্দর করে গোছালো এই বক্তব্য আপনি চাইলে যে কোন মিটিং, মিছিল, কংবা সমাবেশে উপস্থাপন করতে পারবেন। তাই দেরি না করে এখনি আমাদের এই বক্তব্যটি সম্পর্কে ধারণা লাভ করুন।

ধন্যবাদ আপনাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষণ ২০২২ সম্পর্কে পুরো পোষ্টটি পড়ার জন্য। আপনার কোনো বন্ধুর প্রয়োজন হলে তাকে শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button