স্বাস্থ

হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায় ? বিস্তারিত জানুন

আজকে আপনাদের সামনে আমরা হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায় ?,হেপাটাইটিস বি হলে করনীয়,হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ ও এ রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি, আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়ে বিস্তারিত জানুন।

হেপাটাইটিস বি কি

আপনাদের আগেই বলেছি, হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই রোগ মূলত যকৃত বা লিভার কে আক্রমণ করে ফেলে। HBV( হেপাটাইটিস বি) ভাইরাসের আক্রমণে এই রোগ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতপক্ষে একজন রোগীর যদি রক্ত পরীক্ষা না করা হয়,তাহলে হেপাটাইটিস বি হয়েছে কিনা তা জানা অনেক কষ্টকর। এই কারণে আমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে হেপাটাইটিস বি রোগ হয়েছে তা জানতে পেরেছে।

হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায়

হেপাটাইটিস বি মারাত্মক একটি সংক্রমণ ব্যাধি। সংক্রমণ ব্যাধি বলতে একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে প্রবেশ করে। তাই যখন একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হয়,তখন তাকে আলাদা একটি কক্ষে রাখা হয়। আমাদের মাঝে অনেকের এই বিষয়টি নিয়ে অনেক দোটানা রয়েছে যে হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায় কিনা।

যেহেতু হেপাটাইটিস বি একটি সংক্রমণ ব্যাধি। তাই আপনার যদি হেপাটাইটিস রোগ ধরা পড়ে,তাহলে প্রথম অবস্থায় আপনি বিয়ে করতে পারবেন না। কারণ আপনি যখন আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে বসবাস করবেন। তখন আপনার হেপাটাইটিস বি ভাইরাস তাকেও আক্রমণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায়

এখন আপনি বলবেন আমি তো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছি। টিকা গ্রহণ করলে ভাইরাস ছড়ায় না এটা ঠিক। কিন্তু সবসময় ভাইরাসের পাশে থাকলে তা আপনার টিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ স্বামী স্ত্রী তো কখনো আলাদা থাকতে পারবে না,তারা সব সময় একসঙ্গে থাকবে তাই এই ভাইরাস আক্রমণ করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এক সময় দেখা যাবে আপনার প্রতিরক্ষা ভেঙে দিয়ে আক্রমন করতে পারে। বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সবসময় এই কথায় বলে।

যেহেতু আপনি বিয়ে করবেন। বিয়ের পর একসাথে স্বামী ও স্ত্রীর সাথে চলাফেরা করতে হয়। তখন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নিজেকে পাল্টিয়ে শক্ত হবার অনেক সময় পাবে। তারপর দেখা যাবে আপনাদের দুজনকেই খুব শক্ত ভাবে আক্রমণ করতে পারে।

এছাড়াও সবথেকে বড় বিষয়টা হলো আপনাদের অনাগত সন্তানে ছড়াতে পারে। তাই আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভালো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ হওয়া। তারপর বিয়ে করে দুজন একত্রে বসবাস করা। তবে আমি আপনাকে বিয়ে করতে মানা করছি না। কারণ বিয়ে থেকে আপনাকে পিছিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের ভেতর পড়ে না। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে আপনাকে একটু সময়ের জন্য বিয়ে থেকে বিরত থাকার কথা বলছি।

এছাড়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যদি আপনাদের দুজনকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করতে বলে। তাহলে টিকা গ্রহণ করার পর, দুজন বিয়ে করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সম্মতি থাকতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না বলে আমরা মনে করি।

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ

আপনাকে আগেই বলেছি,হেপাটাইটিস বি এমন এক ব্যাধি যার লক্ষণ সহজে প্রকাশ পায় না। আবার যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়,ততক্ষণে রোগটা সংক্রমিত হয়ে পড়ে। সাধারণত এ রোগ রক্ত, বীর্য অথবা শরীরের অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়। চলুন হেপাটাইটিস বি রোগের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখে নেই।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, শরীর ব্যাথা, হালকা জ্বর, প্রস্রাব গাঢ় ও হলুদ হওয়া ইত্যাদি। এ লক্ষণ গুলো দেখা দেওয়ার পর, ধীরে ধীরে তা জন্ডিসে রূপ নিতে থাকে। এছাড়াও হেপাটাইটিস এর ক্ষেত্রে গা চুলকায়,গায়ের চামরার উজ্জলতা নষ্ট হয়ে যায়,আক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় অস্বস্তি অনুভব করে ও মাংসপেশি এবং হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হয় ।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে যকৃতের গুরুতর অসুস্থতা দেখা দেয় ও কারো কারো মৃত্যুও ঘটতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষণ গুলো প্রকাশ না করে, সুপ্ত/লুকিয়েও থাকতে পারে। এ রোগের লক্ষণ সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না দেখেই, প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না।

হেপাটাইটিস বি এর কারণ এবং কিভাবে ছড়ায় ?

হেপাটাইটিস বি মূলত মারাত্মক রকম সংক্রমক একটি ব্যাধি। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত ভাইরাস হস্তান্তরের মাধ্যমে,দ্বিতীয়তঃ সংক্রমণের কারণে। ভাইরাস হস্তান্তর বলতে,হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত কাউকে রক্ত প্রদানে এ রোগ হতে পারে বা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে,যৌন মিলন, সমকামিতা, বীর্য পান করা, মুখে যৌন ক্রিয়া ও চুম্বনের দারাও এই রোগ ছড়ায়।

এই রোগে আক্রান্ত মায়ের থেকেও তার সন্তানে এই ভাইরাসের সংক্রমিত হতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুর সংক্রামন ঝুকি ৯০% ও আক্রান্ত সন্তান থেকে মা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ২০%। এছাড়াও এ রোগ পরিবারের এক সদস্য থেকে দ্রুত অন্য সদস্যদের আক্রমণ করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে এইচআইভি ভাইরাসের থেকেও এটি ১০০ গুন বেশি সংক্রামক।

হেপাটাইটিস বি কি ভাল হয় ?

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস যদি প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায়,তাহলে এটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি সংক্রমণ হওয়ার পরে সনাক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে পুরোপুরি নির্ভুল না করতে পারলেও চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস ভাইরাস এর মধ্যে সবথেকে বেশি মারাত্মজনক হলো বি।

হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাস সহজে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু গুরুতর। তবে বেশি চিন্তা করার কোনো কারণ নেই,বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থাই হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখার অনেক পদ্ধতি রয়েছে।

হেপাটাইটিস বি কি ছোঁয়াচে রোগ ?

হেপাটাইটিস বি ছোঁয়াচে একটি রোগ। সাধারণত একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে এ ভাইরাস আক্রমণ করে। মূলত দুই রকম ভাবে একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমিত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ত প্রদান করলে বা হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে রক্ত গ্রহণ করলে। এছাড়াও এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করার মাধ্যমে এর সংক্রমণ হতে পারে।

এছাড়াও যদি স্বামীর হেপাটাইটিস ভাইরাস থাকে, তাহলে স্ত্রীর ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও গর্ভবতী মায়ের যদি এ ভাইরাসে সংক্রমিত থাকে,তাহলে তার নবজাতক সন্তানের হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। তাই বলা যেতে পারে হেপাটাইটিস বি একটি ছোঁয়াচে রোগ। যা একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে খুব সহজে সংক্রমিত বা ছড়িয়ে পড়ে।

হেপাটাইটিস বি হলে করনীয় ও প্রতিকার

মহান আল্লাহতালা যখন পৃথিবীতে একটি রোগ পাঠায়, তার আগে থেকেই সেই রোগের প্রতিষেধক তৈরি করে দিয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে হেপাটাইটিস বি রোগের ঔষধ ও প্রতিষেধক রয়েছে। তাই আপনি যদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হন,অবশ্যই আপনাকে মনোবল ধরে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি আপনাকে এ রোগ থেকে মুক্তির উপায় জানতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কার্যকরী কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে একটি রোগের প্রতিষেধক এর চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। তাই আপনাকে অবশ্যই এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধই এ রোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায়। এছাড়াও টিকার মাধ্যমেও এই ভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থেকে প্রতিকারের অন্যতম উপায় বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা,সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও যথার্থ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা,মদ্যপান ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য দ্রুত পরিহার করা,অনিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকা,ডিসপজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করা,ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ যেমন অনিরাপদ যৌনতা ও একই সুঁচ বহুজনের ব্যবহার করেছে তা পরিহার করা,যৌন মিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করা,সেলুনে শেভ করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা ও আলাদা আলাদা ব্লেড ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও আকুপাংচার, ট্যাটু করা থেকে বিরত থাকতে হবে,অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে,টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ এবং বি ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। উপরে উল্লেখিত নিয়ম গুলো আপনি যদি মেনে চলতে পারেন। তাহলে আশা করা যায় আপনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থেকে নিজেকে একটু হলেও মুক্ত করতে পারবেন।

হেপাটাইটিস বি এর ঔষধ

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের শতভাগ সফল ঔষধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবিত ঔষধ গুলো ভালো ফল দিচ্ছে বলে গবেষকরা দাবি করছে, কিন্তু বিশ্বস্ত ঔষধ বাজারে এখন পর্যন্ত আসেনি। হেপাটাইটিস বি এর ঔষধ হিসেবে এখন খাবার ট্যাবলেট বেরিয়েছে, যার দাম খুব বেশি ব্যয় বহুল নয়। কার্যকরী ঔষধ হলো ইন্টারফেরন, পেগালিটেড ইন্টারফেরন আলফা ২-বি বা পেগাসিস।

সাথে মুখে খাবার ঔষধ ল্যামিভুডিন, এডিফোভির আর সর্বশেষ সংযোজন টেলবিভুডিন ইত্যাদি। তবে এগুলো ওষুধ আপনাকে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ খেতে হবে। এমন অনেক হেপাটাইটিস রোগী আছে যারা এগুলো ওষুধ সেবন করার পর মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে আপনি যদি চিকিৎসকের পরামর্শ সেবন করেন তাহলে কোন সমস্যা হবে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

হেপাটাইটিস বি এর টেস্ট

হেপাটাইটিস বি ভা‌ইরাস পজিটিভ কিনা তার জন্য অবশ্যই টেস্ট করতে হবে। মূলত HBV DNA ও HCB RNA দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি টেস্ট করা হয়।

হেপাটাইটিস বি এর টেস্ট খরচ

হেপাটাইটিস বি ভা‌ইরাস পজিটিভ কিনা তার জন্য অবশ্যই টেস্ট করতে হবে। মূলত HBV DNA ও HCB RNA দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি টেস্ট করা হয়। সরকারি হাসপাতালে টেস্ট করলে সেক্ষেত্রে খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা আসবে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে টেস্ট করলে খরচ পড়বে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ

হেপাটাইটিস বি মারাত্মক একটি সংক্রমণ রোগ, সে জন্য আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী একটি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। আসলে চিকিৎসার মেয়াদ ও কোন দেশের চিকিৎসা করবেন তার ওপর নির্ভর করবে হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ। হেপাটাইটিস বি এর টেস্ট ও চিকিৎসা খরচ সহ প্রায় এক লক্ষ টাকা লাগতে পারে। তবে আপনার প্রাথমিক অবস্থায় হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে খরচ অনেক কম পড়বে।

হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন দাম

হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমিত হলে অবশ্যই আপনাকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশে সরকারি বেসরকারি সকল হাসপাতলে এ রোগের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের দাম মাত্র ৫০০ টাকা। আপনাকে মোট ৪ টি ডোজ সম্পন্ন করতে হবে।

হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম

বর্তমানে সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সব থেকে বেশি কার্যকরী প্রতিষেধক হলো ভ্যাকসিন। আপনি যদি এ রোগে সংক্রমিত হন, অবশ্যই আপনাকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাকসিন মোট ৪টি ডোজ ৷ প্রথম ৩টি ডোজ একমাস পরপর ও ৪র্থ খোঁজ প্রথম ডোজ থেকে এক বছর পর ও পাঁচ বছর পর বুস্টার ডোজ নিতে হয় ৷ এই টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে ৷

হেপাটাইটিস বি রোগীর খাবার

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের এখন পর্যন্ত সঠিক কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এজন্য আপনাকে অবশ্যই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় হল হেপাটাইটিস বি রোগের খাবার তালিকা। অবশ্যই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার তালিকায় নজর দিতে হবে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি। কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ কারণে লিভার ও যকৃতে সমস্যা হতে পারে। তাই আপনাকে সঠিক খাদ্য অভ্যাস ও সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে হবে।

ফলমূল হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের প্রচুর পরিমাণে ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে আপেল, কমলা, আঙ্গুর এবং কলা নিয়মিত খাওয়া দরকার। আপেল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ঠাণ্ডা-সর্দি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কমলাতে আছে ভিটামিন সি,যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়াও কলায় রয়েছে উচ্চ তাপন মূল্য ও আঙ্গুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও প্রোটিন যা লিভারের যেন খুবই কার্যকরী।

এছাড়াও তেলমশলা যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। কারণ তেল ও মশলা জাতীয় খাবার লিভারের সমস্যা করে। গ্লুকোজ় শরবত খেলে উপকার পাওয়া যায়। আবার যে খাবারগুলো খেলে খুব সহজে হজম হয়। সে খাবারগুলো হেপাটাইটিস বি রোগীদের খাওয়া উচিত।

শাকসবজি লিভারের অনেক উপকারী উপাদান। এর মধ্যে পুঁইশাক, পালংশাক,গাজর, মাশরুম ও প্রাকৃতিক ছত্রাক খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ও আয়রন খেতে পারেন।

হেপাটাইটিস বি এর হোমিও চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগ নয় মূলত রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। এজন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় যেকোনো রোগের সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই জন্য একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টাড প্রাপ্ত হোমিও ডাক্তারের থেকে ডা. হানেমানের নির্দেশিত হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে করুন।

দেখবেন হেপাটাইটিস বি রোগের স্বাতন্ত্র্যভিত্তিক লক্ষণ সমষ্টি নির্ভর ও ধাতুগতভাবে চিকিৎসা দিলে আল্লাহর রহমতে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। তবে এজন্য আপনি সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। হোমিওপ্যাথিতে হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

হেপাটাইটিস বি হলে কি খাওয়া উচিত

হেপাটাইটিস যেহেতু লেবার জনিত একটি মারাত্মক সমস্যা। এজন্য খাবার খাওয়ার বিষয়ে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে তেল ও মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এছাড়াও যে খাবারগুলো আপনার হজম শক্তিকে বাড়িয়ে দেবে। সে খাবারগুলো বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে ফলমূল ও শাকসবজি হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে অনেক সহায়ক।

হেপাটাইটিস বি এর ঘরোয়া চিকিৎসা

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের এখন পর্যন্ত সঠিক কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার হয়নি। এই কারণে আপনাকে ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিতভাবে ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে পারলে এ সংক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও উপশম পেতে পারেন।

লিভার ও যকৃতের সমস্যার কারণে মূলত হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। এজন্য আপনি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। এছাড়াও আনারসের রসও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে উপকারী। আনারস ভেতর থেকে পাকস্থলীকে পরিষ্কার করে।

প্রতিদিন নিয়ম করে খালি পেটে এক চামচ মধু খান। মধুতে হেপাটোপ্রোটেকটিভ এবং অ্যান্টিভাইরাল। যা লিভারের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়াও আপনি আখের রস খেতে পারেন। আখের রস লিভার সংক্রান্ত ঝুঁকি দূর করে হেপাটাইটিস বি এর মারাত্মক পরিণতি উপশম পেতে সাহায্য করে।

উপসংহার

এই ছিল আজকে আমাদের হেপাটাইটিস বি ভাইরাস হওয়ার কারণ ও হেপাটাইটিস বি হলে কি বিয়ে করা যায় কিনা তা নিয়ে বিস্তারিত একটি টিউটোরিয়াল। এছাড়াও আপনাদের সামনে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে এ টু জেড আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি,যারা এ রোগে আক্রান্ত তাদের আজকের আর্টিকেল থেকে কিছুটা হলে উপকৃত হবেন।

হেপাটাইটিস বি রোগ আক্রান্ত হলে ভয় না করে, ভ্যাকসিন গ্রহণ করার পর, আপনি যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। তাহলে ইনশাল্লাহ এটা থেকে মুক্তি পাবেন। আজকের আর্টিকেল কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এছাড়াও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের মারাত্মক একটি সংক্রমণ রোগ হেপাটাইটিস বি। এ রোগ যকৃত বা লিভার কে আক্রমণ করে। মূলত হেপাটাইটিস বি ভাইরাস এর আক্রমণের কারনে এই রোগ হয়। অনেক সময় সংক্রমণ হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এই কারণে অনেকে বুঝতেই পারে না তার শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস রয়েছে।  আমাদের সমাজে হেপাটাইটিস সম্পর্কে অনেক ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিত হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা।

Back to top button