সাহাবীদের নাম অর্থসহ

সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক। আবারো হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি ইসলামিক পোস্ট নিয়ে। আজকে আপনাদের সামনে সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি,আজকে পুরোটা সময় মনোযোগ সহকারে আর্টিকেল পড়বেন। শুধু আজকের আর্টিকেল পড়লেই হবে না, সকল মহিলা সাহাবীদের জীবনী থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের আমল করতে হবে।

মহিলা সাহাবী কারা

যে সকল মহিলা গণ রাসূল (সা) দেখেছেন ও মহান আল্লাহতালার উপর এনেছেন এবং ঈমান নিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই সব মহিলাকে মহিলা সাহাবী বলা হয়।

সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা

আমাদের সকল মুমিন মুসলমানের রাসুল পাক সাঃ এর সকল সাহাবীর নাম ও জীবনী পড়া দরকার। কারণ তাদের জীবনে যদি আমরা পড়ে সঠিকভাবে জীবন যাপন করতে পারি তাহলে অবশ্যই জীবনে ভালো কিছু অর্জন করতে পারব। এছাড়াও বর্তমান সময়ে যদি কোন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে পুত্র বা কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

তাহলে আমরা সে সকল শিশুদের আধুনিক নাম দিয়ে থাকি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনি যদি একজন মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার সন্তানের নাম ইসলামিক ও সুন্দর রাখতে হবে। ইসলামিক এমন কিছু সুন্দর নাম হলো সাহাবীগণের নাম। অর্থাৎ আপনি সাহাবীগণের নাম অনুসরণ করে আপনার পুত্র ও কন্যা সন্তানের নাম রাখতে পারেন।

তাই আজকে আমরা মহিলা সাহাবীগণের নাম নিচে উল্লেখ করছি। আপনার পরিবারে যদি নবজাতক কোন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে তাহলে তার নাম নিচে নিম্নলিখিত মহিলা সাহাবীগণের নাম অনুসারে রাখতে পারেন। সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকাঃ-

  • রুফাইদা আনসারিয়া (রাঃ)
  • রবীআহ বিনতে নাযার আনসারিয়াহ (সাঃ)
  • রায়তা বিনতে হারিছ (রাঃ)
  • আসমা বিনতে আবী বকর সিদ্দীক (রাঃ)
  • আরওয়া বিনতে আবদিল মুত্তালিব (রাঃ)
  • রমলা বিনতে আবী সুফিয়ান (রাঃ)
  • তামীমা বিনতে ওহহাব (রাঃ)
  • উমাইয়া বিনতে আনাজ্জার আনসারিয়াহ (রাঃ)
  • উনাইসাহ বিনতে উদাই (রাঃ)
  • বুসরা বিনতে সাফওয়ান কুরায়শী (রাঃ)
  • হাকীমা বিনতে গাইলান (রাঃ)
  • জামীলা বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
  • সুবাইতা বিনতে দাহাক (রাঃ)
  • হালীমাতুস সাদিয়া (রাঃ)
  • উম্মে ফযল (রাঃ)
  • ফাতিমা বিনতে আসাদ (রাঃ)
  • উম্মে আইমান (রাঃ)
  • ফাতিমা বিনতে খাত্তাব (রাঃ)
  • উম্মে রুমান (রাঃ)
  • শিফা বিনতে আবদিল্লাহ (রাঃ)
  • ফাতিমা বিনতে কায়িস (রাঃ)
  • আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)
  • দুররা বিনতে আবী লাহাব (রাঃ)
  • হুইলা বিনতে হারিছ (রাঃ)
  • খালীদাহ বিনতে কানাব (রাঃ)
  • হিন্দা বিনতে উতবা (রাঃ)
  • খুযায়মা বিনতে জাহাশ (রাঃ)
  • নাওলা বিনতে আসলাম (রাঃ)
  • লায়লা বিনতে হাকীম (রাঃ)
  • নুসাইবা বিনতে কা’ব (রাঃ)
  • মালিকা বিনতে উয়াইমার (রাঃ)
  • নাফীসা বিনতে উমাইয়া (রাঃ)
  • লুবাবা বিনতে হাকীম (রাঃ)
  • সুখাইলা বিনতে উবাইদ (রাঃ)
  • সায়ীদা বিনতে কুমামা (রাঃ)
  • সাখবারা বিনতে তামীম (রাঃ)
  • সায়ীদা বিনতে হারিছ (রাঃ)
  • সুমাইয়া (রাঃ)
  • আতিকা বিনতে আবদিল মুত্তালিব (রাঃ)
  • সীরীন (রাঃ)
  • সাহলা বিনতে সাহল (রাঃ)
  • আলিয়াহ বিনতে যিবইয়ান (রাঃ)
  • উম্মে সুলাইমা (রাঃ)
  • উম্মে আতিয়া (রাঃ)
  • উম্মে উমার (রাঃ)

মহিলা সাহাবীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

সত্যিকার অর্থে আমি ও আপনি যদি একজন মুমিন মুসলমান হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ইসলামের নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে আমরা আধুনিক যুগে বসবাস করে অনেক অন্যায় ও অশালীন কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এখন আপনি যদি এরকম অন্যায় ও অশালীন কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাহাবীগণের জীবনী পড়তে হবে।

আপনি যখন সাহাবীগণের জীবনে পড়তে শুরু করবেন তখন থেকেই ইসলাম ধর্মের প্রতি আপনার আনুগত্য আরও বেড়ে যাবে। এছাড়াও আপনি নিজেকে খারাপ কাজ থেকে সবসময় বিরত রাখবেন। মহান আল্লাহতালা ও রাসুল পাক সাঃ এর নির্দেশে কাজ করতে শুরু করবেন। পূর্বের অনুচ্ছেদে আমরা সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি চলুন এবার তবে সংক্ষিপ্ত জীবনি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

হযরত খাদিজাতুল কুবরা

মহিলা সাহাবীগণের মধ্যে সর্বপ্রথম যার কথা না বললেই নয় তিনি হলেন হযরত খাদিজাতুল কুবরা। তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ(সা.) এর প্রথম স্ত্রী ও ইসলাম ধর্মের প্রথম অনুসারী। খাদিজা (রা) ছিলেন মক্কার কুরাইশ উপজাতির নেতা খুওয়ালিদ ইবনে আসাদের কন্যা। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় সফল ব্যবসায়ী মহিলা।

খাদিজা(রা) কে মুসলমানরা প্রায়শই বিশ্বাসীগণের মা বলে উল্লেখ করে থাকেন। তিনি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহিলা একজন ব্যক্তিত্ব। তার মেয়েরা যথাক্রমে ফাতিমা(রা),আসিয়া (রা) ও মরিয়ম (রা)। মুহাম্মাদ (সা) ২৫ বছর ধরে তার সাথে একগামীভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ)

মহিলা সাহাবী গনের মধ্যে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ(স) এর স্ত্রীগণের তৃতীয়। ইসলাম অনুসারে তাকে উম্মুল মুমিনিন বা বিশ্বাসীদের মাতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মুসলিম সম্প্রদায় তাকে মুহাম্মদ(স) এর স্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করে থাকেন।

এছাড়া তিনি ইসলামের ইতিহাসে বিশ্বাসীদের মাতা উপাধি অর্জন করেছেন। আয়েশা (রা) ছিলেন ইসলামী নবী মুহাম্মদ (স) এর তিনজন কুরআন মুখস্থকারী স্ত্রীদের মাঝে একজন। হাফসার মতো আয়েশা(রা) এর কাছেও মুহাম্মদের মৃত্যুর পর,লেখা কুরআনের অনুলিপি ছিল। আয়েশার জীবদ্দশাতে ইসলামের বেশ কিছু প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট বিধিবিধান যেমন নারীদের পর্দার বিধান চালু হয়।

হযরত ফাতেমা (রা)

হযরত ফাতেমা (রা) ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদ(স) ঐর কন্যা। এছাড়াও তিনি হযরত আলী রাঃ এর স্ত্রী ও হাসান ও হোসাইন এর মাতা। তিনি মুসলিম সকল নারী-পুরুষের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে অনেক সম্মানিত। মক্কায় যখন কুরাইশদের দ্বারা হজরত মুহাম্মদ (রং)এর উপর নিযার্তন ও দুর্দশার সময় ফাতিমা সবসময় তার পাশে ছিলেন।

মদিনায় হিজরতের পর হজরত আলী রাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চারটি সন্তান হয়। তার পিতা হযরত মুহাম্মাদ(স) এর পরলোকগমনের কয়েক মাস পরেই তিনি পরলোকগমন করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তবে তার কবরের প্রকৃত অচিহ্নিত রয়েছে। অর্থাৎ তার কবরের কোন চিহ্ন নেই।

হযরত সুমাইয়া(রা)

হযরত সুমাইয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ সাহাবী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে তিনি আবু জাহলের হাতে নিহত হন। তিনি ইয়াসির ইবনে আমিরের স্ত্রী এবং আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মাতা ছিলেন। যারা প্রাথমিক মুসলিম ধর্মান্তরিতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

মক্কায় হযরত সুমাইয়ার(রা) পরিবারের উপর কুরাইশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহায্য করার মত তখন কেউ ছিল না। কারণ তিনি বহিরাগত ও দাস ছিলেন। তাই তিনি বহু নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। মক্কার আবু জাহেল ও তার সঙ্গীরা সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্যাচার তার উপর করতো। তার নির্যাতন ও নিহত হওয়ার ঘটনা ইবনে ইসহাক রচিত সীরাতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে।

 হযরত ছাওদা (রা)

রাসুল পাক সাঃ এর মহিলা সাহাবীগণের মধ্যে হযরত ছাওদা (রা) অন্যতম প্রধান একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ(স) এর স্ত্রী ও মুসলিম জাতিসত্তার উম্মুল মুমিনুন। তার পিতা নাম যামা ইবনে কাস। তার পিতা মক্কার কুরাইশ গোত্রের আমির ইবনে লুআই বংশের ছিলেন। তার মাতা নাম আল-সামস্ বিনতে কাস ও মদিনার বংশের বনু নাজযার।

তিনি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা মুহাম্মদ(স) নির্দেশে হিজরত করেছিলেন তিনি তাদের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার ছেলে আবদুর রহমান ইবনে সাকরান জালুলা যুদ্ধে নিহত হন।

পরিশেষে কিছু কথা:

এই ছিল আজকে আমাদের সকল মহিলা সাহাবীদের নামের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আশা করি,আজকের আলোচনা থেকে আপনি অবশ্যই কিছু না কিছু বিষয় শিক্ষা অর্জন করবেন। এছাড়াও আপনার যদি কোন মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাহলে অবশ্যই মেয়ে সন্তানের নাম মহিলা সাহাবীগণের নাম অনুসারে রাখতে পারেন।

শুধু মহিলা সাহাবীগণের সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়লেই হবে না। এগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা অর্জন করতে হবে। মহিলা সাহাবীগণ কিভাবে ইসলামকে ভালোবাসতেন তাদের মতোই আমাদের ভালবাসতে হবে। তাহলে আমরা পরকালের ভালো একটি জায়গায় থাকতে পারবো। আশা করি, আপনারা অবশ্যই মহিলা সাহাবীগণের জীবনী পড়ে বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করবেন।

Back to top button