সাহাবীদের নাম অর্থসহ

শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের নাম ও জীবনী জেনে নিন

সাহাবী বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যিনি ঈমানের সাথে রাসূল (সা.) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ঈমানের সাথেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আজকের আর্টিকেলের একমাত্র আলোচ্য বিষয় হলো শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের নাম ও জীবনী সম্পর্কে। আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ অবধি পড়ে তাদের জীবনি সহ বিস্তারিত জেনে নিন। 

সাহাবী হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। এক. ঈমান আনা।   দুই. ঈমানের সাথে রাসূল (সা.) এর সাক্ষাৎ লাভ। তিন. ঈমানের সাথেই মৃত্যুবরণ করেছেন।এই তিন শর্তের কোনো একটি না পাওয়া গেলে তিনি সাহাবী হতে  পারবেন না। আল ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ ১/১৭৭ আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন। 

و الله تعالى أعلم بالصواب

وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم

শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের নাম

সাহাবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন চার খলিফা:

  1. আবূ বাকর সিদ্দীক (রা:)
  2. উমার বিন খাত্তাব (রা:)
  3. উসমান বিন আফফান (রা:)
  4. আলী বিন আবী তালীব (রা:)

আবূ বাকর সিদ্দীক (রা:)

ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবু বকর (রা:)।তিনি আশারাতুল মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত। হযরত মুহাম্মদ (স:) এর প্রিয় সাহাবি ছিলেন।তাছাড়া ইসলামের প্রথম মুসলিম পুুুুরুষ হযরত আবু বকর (র:)।

(৫৭৩-৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)। ইসলাম ধর্মের প্রথম খলিফা, হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর শ্বশুর। মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল আবদুল্লাহ্, আবু বকর ছিল তার ডাক নাম। 

ইসলাম গ্রহণ করিবার পর তিনি সিদ্দীক (সত্যবাদী) এবং আতিক (দানশীল) খেতাব লাভ করেছিলেন। আবু বকরের পিতার নাম ছিল ওসমান, কিন্তু ইতিহাসে তিনি আবু কুহাফা নামেই সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মাতার নাম উম্মুল খায়ের সালমা। আবু বকরের মাতাপিতা উভয়েই বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রের লোক ছিলেন। তার মা প্রথমদিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পিতা হিজরীর অষ্টম বৎসরে ইসলামে দীক্ষিত হন।

জন্ম:-অক্টোবর ৫৭৩ মক্কা,আরব দ্বীপ।

মৃত্যু:-২২ আগষ্ট ৬৩৪ মদিনায়।

শাসনকাল :-৮ জুন ৬৩২-২২ আগষ্ট ৬৩৪।

স্ত্রী:- কুতাইলা বিনতে আব্দুল উজ্জা (তালাকপ্রাপ্ত)। উম্মে রুমান,আসমা বিনতে উমাইস,হাবিবা বিনতে খারিজা।

সন্তান:-

  • আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর
  • আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর
  • মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর
  • আসমা বিনতে আবি বকর
  • আয়েশা (রা:)
  • উম্মে কুলসুম বিনতে আবি বকর।

পূর্ণ নাম:-আব্দুল্লাহ বিন আবি কুহাফা।আবু বকর নামে পরিচিত।

পিতা ও মাতা:- উসমান আবু কুহাফা ও সালমা উম্মুল খাইর।

ভাইবোন:-

  • মুতাক
  • উতাইক
  • কুহাফা ইবনে উসমান
  • ফাদরা
  • কারিবা
  • উম্মে আমির

বংশ:- সিদ্দিকি।

উমার বিন খাত্তাব (রা:)

নাম ’উমার, লকব ফারুক এবং কুনিয়াত আবু হাফ্‌স। পিতা খাত্তাব ও মাতা হান্‌তামা। কুরাইশ বংশের আ’দী গোত্রের লোক। ’উমারের অষ্টম উর্ধ পুরুষ কা’ব নামক ব্যক্তির মাধ্যমে রাসূলুল্লাহর সা. নসবের সাথে তাঁর নসব মিলিত হয়েছে। পিতা খাত্তাব কুরাইশ বংশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। মাতা ‘হানতামা’ কুরাইশ বংশের বিখ্যাত সেনাপতি হিশাম ইবন মুগীরার কন্যা। ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ এই মুগীরার পৌত্র। মক্কার ‘জাবালে ’আকিব’- এর পাদদেশে ছিল জাহিলী যুগে বনী ‘আ’দী ইবন কা’বের বসতি। এখানেই ছিল হযরত উমারের বাসস্থান। ইসলামী যুগে ’উমারের নাম অনুসারে পাহাড়টির নাম হয় ‘জাবালে ’উমার’- ’উমারের পাহাড়। [ তাবাকাতে ইবন সা’দ ৩/৬৬]

’উমারের চাচাত ভাই, যায়িদ বিন নুফাইল। হযরত রাসূলে কারীমের আবির্ভাবের পূর্বে নিজেদের বিচার-বুদ্ধির সাহায্যে মূর্তিপূজা ত্যাগ করে জাহিলী আরবে যাঁরা তাওহীদবাদী হয়েছিলেন, যায়িদ তাঁদেরই একজন। রাসূলুল্লাহর সা. জন্মের তের বছর পর তাঁর জন্ম। মৃত্যুকালেও তাঁর বয়স হয়েছিল রাসূলুল্লাহর সা. বয়সের সমান ৬৩ বছর। তবে তাঁর জন্ম ও ইসলাম গ্রহণের সন সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। গায়ের রং উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, টাক মাথা, গন্ডদেশ মাংসহীন, ঘন দাড়ি, মোঁচের দু’পাশ লম্বা ও পুরু এবং শরীর দীর্ঘাকৃতির। হাজার মানুষের মধ্যেও তাঁকেই সবার থেকে লম্বা দেখা যেত।

তাঁর জন্ম ও বাল্য সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। ইবন আসাকির তাঁর তারীখে ’আমর ইবন ’আস রা. হতে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তাতে জানা যায়, একদিন ’আমর ইবন ’আস কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবসহ বসে আছে, এমন সময় হৈ চৈ শুনতে পেলেন। সংবাদ নিয়ে জানতে পেলেন, খাত্তাবের একটি ছেলে হয়েছে। এ বর্ণনার ভিত্তিতে মনে হয়, হযরত ’উমারের জন্মের সময় বেশ একটা আনন্দোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর যৌবনের অবস্থাটাও প্রায় অনেকটা অজ্ঞাত। কে জানতো যে এই সাধারণ একরোখা ধরনের যুবকটি একদিন ‘ফারুকে আযমে’ পরিণত হবেন।

কৈশোরে ’উমারের পিতা তাঁকে উটের রাখালী কাজে লাগিয়ে দেন। তিনি মক্কার নিকটবর্তী ‘দাজনান’ নামক স্থানে উট চরাতেন। তিনি তাঁর খিলাফতকালে একবার এই মাঠ অতিক্রমকালে সঙ্গীদের কাছে বাল্যের স্মৃতিচারণ করেছিলেন এভাবেঃ ‘এমন এক সময় ছিল যখন আমি পশমী জামা পরে এই মাঠে প্রখন রোদে খাত্তাবের উট চরাতাম। খাত্তাব ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও নীরস ব্যক্তি। ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রাম নিলে পিতার হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হতাম। কিন্তু আজ আমার এমন দিন এসেছে যে, এক আল্লাহ ছাড়া আমার উপর কতৃত্ব করার আর কেউ নেই।’ [তাবাকাতঃ ৩/২৬৬-৬৭]

উসমান বিন আফফান (রা:)

উসমান ইবন আফ্‌ফান (আরবি: عثمان بن عفان‎‎; জন্মঃ আনু. ৫৭৯ – মৃত্যুঃ ১৭ জুন ৬৫৬) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা। ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খলিফা হিসেবে তিনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদুনের একজন। উসমান আস-সাবিকুনাল আওয়ালুনের (প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণকারী) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তিনি আশারায়ে মুবাশ্‌শারা‘র একজন এবং সেই ৬ জন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম যাদের উপর মুহাম্মদ সন্তুষ্ট ছিলেন। তাকে সাধারণত হযরত উসমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কুরাইশ গোত্রের বিশিষ্ট বংশ বনু উমাইয়ায় জন্মগ্রহণকারী। প্রথম দিকের ইসলামিক ইতিহাসে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালনকারী এবং তিনি কুরআনের আদর্শ সংস্করণ সংকলনের আদেশ দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন।

উসমানের নেতৃত্বে ৬৫০ সালে ইসলামী সাম্রাজ্য ফার্স (বর্তমান ইরান) এবং ৬৫১ সালে খোরাসান (বর্তমান আফগানিস্তান) এর কয়েকটি অঞ্চলে প্রসারিত হয়েছিল। ৬৪০ এর দশকের মধ্যে আর্মেনিয়া বিজয় শুরু হয়েছিল।

হযরত ’উসমান ছিলেন কুরাইশ বংশের অন্যতম কুষ্টিবিদ্যা বিশারদ। কুরাইশদের প্রাচীন ইতিহাসেও ছিল তাঁর গভীর জ্ঞান। তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, সৌজন্য ও লৌকিকতাবোধ ইত্যাদি গুণাবলীর জন্য সব সময় তাঁর পাশে মানুষের ভীড় জমে থাকতো। জাহিলী যুগের কোন অপকর্ম তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। লজ্জা ও প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ ছিল তাঁর মহান চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যৌবনে তিনি অন্যান্য অভিজাত কুরাইশদের মত ব্যবসা শুরু করেন। সীমাহীন সততা ও বিশ্বস্ততার গুণে ব্যবসায়ে অসাধারণ সাফল্য লাভ করেন। মক্কার সমাজে একজন বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী হিসাবে ‘গনী’ উপাধি লাভ করেন।

আলী বিন আবী তালীব (রা:)

আলী ইবনে আবী তালিব (আরবি: علي ابن أبي طالب‎, প্রতিবর্ণী. ʿAlī ibn ʾAbī Ṭālib‎; আনু. ১৩ সেপ্টেম্বর ৬০১ – আনু. ২৯ জানুয়ারি ৬৬১) ছিলেন ইসলামের নবী মুহম্মদের চাচাতো ভাই, জামাতা ও সাহাবি যিনি ৬৫৬ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলিফা হিসেবে মুসলিম বিশ্ব শাসন করেন। সুন্নি ইসলাম অনুসারে তিনি চতুর্থ রাশিদুন খলিফাশিয়া ইসলাম অনুসারে তিনি মুহম্মদের ন্যায্য স্থলাভিষিক্ত ও প্রথম ইমামতিনি ছিলেন আবু তালিব ইবনে আবদুল মুত্তালিবফাতিমা বিনতে আসাদের পুত্র, ফাতিমার স্বামী এবং হাসানহোসাইনের পিতা। তিনি আহল আল-কিসাআহল আল-বাইতের একজন সদস্য।

ছোটবেলায় মুহাম্মদ তাঁর যত্ন নিতেন। মুহাম্মদের নিকট আত্মীয়দের আমন্ত্রণের পর আলী প্রায় ৯ থেকে ১১ বছর বয়সে ইসলামে প্রথম বিশ্বাসীদের একজন হন এরপর তিনি প্রকাশ্যে ইয়াওম আল-ইনজারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং মুহাম্মদ তাকে তার ভাই, অভিভাবক[১৯] এবং উত্তরসূরি বলে অভিহিত করেন।তিনি মুহাম্মাদকে তার জায়গায় ঘুমিয়ে লাইলাত আল-মাবিতের রাতে হিজরত করতে সাহায্য করেছিলেন। মদিনায় চলে যাওয়ার পর এবং মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বচুক্তি প্রতিষ্ঠার পর মুহাম্মদ তাকে তার ভাই হিসেবে বেছে নেন। মদিনায় তিনি বেশিরভাগ যুদ্ধে পতাকাবাহক ছিলেন এবং সাহসিকতার জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন। 

হে আল্লাহ! ইসলামের জন্য যেসকল সাহাবীগণ নিজেদের জীবন উৎসর্গ ও সম্পদ ব্যয় করেছেন, মহান রাব্বুল আলামীন সেসব সাহাবীদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী করুন। তাদের উপর আপনার অশেষ রহমত, জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত অবিরত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বোচ্চ প্রসংসিত ও সম্মানের অধিকারী।

ধন্যবাদ আপনার অনৃুসন্ধানের জন্য এবং আমাদের সাইটে ভিজিট করার জন্য। আশাকরি আপনার কাঙ্খিত অনুসন্ধান শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের নাম  সহ বর্ণনা সম্যক জানতে সক্ষম হয়েছেন।

Back to top button