স্বাস্থ

বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয়, ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

আসলামুআলাইকুম প্রিয় পাঠক। আশা করি আপনি অনেক ভাল আছেন। আবারো হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক টিউটোরিয়াল নিয়ে। বর্তমান সময়ে ছোট থেকে শুরু করে প্রায় সকল বয়সের মানুষের বুকে ব্যাথা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ৩০ বছরের পর থেকে বুকে ব্যথা রোগটা বেশি দেখা যায়। আজকের আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয় হলো বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয়, ব্যথার কারণ ও প্রতিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। 

হৃদরোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল বুক ব্যথা। তাই আপনার যদি বুকে ব্যথা অনুভব হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে ব্যথার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ আপনি যদি প্রাথমিক অবস্থায় ভালো চিকিৎসা করতে না পারেন, তাহলে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। 

সাধারণত বুকের মধ্যে অনূভূত ব্যথা বা অস্বস্তি, যা বুকের সামনের অংশে অনুভূত হয়। এটিকে তীক্ষ্ণ, নিস্তেজ, চাপ, ভারীতা বা চেপে ধরা হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাঁধ, হাত, পেটের উপরের অংশ বা চোয়ালে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ঘাম বা শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়। এরকম যদি আপনার লক্ষণ থাকে, তাহলে বুঝবেন আপনার বুক ব্যথা হয়েছে। 

বুকের মাঝখানে ব্যথা কারণ

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সকল দেশের মানুষের বুকের মাঝখানে ব্যথা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশেও তা চলমান রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের দেশে বুকে ব্যথা রোগের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুকের মাঝখানে ব্যথার আসল কারণ কি তা আপনার জানতে হবে। 

আপনি যদি বুকে ব্যথার কারণ গুলো জানতে পারেন তাহলে,সেই কারণগুলো থেকে আপনি বিরত থাকার চেষ্টা করেন। তাহলে দেখবেন সাময়িকভাবে বুক ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। চলুন জেনে নেই,বুকের মাঝখানে ব্যথা অনুভব হওয়ার কারণগুলো কি কি।

কার্ডিওভাসকুলার

বুকের মাঝখানে ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কার্ডিওভাসকুলার। কার্ডিওভাসকুলার হলো হৃৎপিণ্ড এবং রক্তবাহক (ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকা) সম্পর্কিত রোগ। প্রধানত হৃদসংবহন তন্ত্র, মস্তিষ্ক, বৃক্ক ও প্রান্তিক ধমনী সম্পর্কিত, রোগকে কার্ডিওভাসকুলার রৌগ বলে। বুকে ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাথেরোসক্লোরোসিস প্রধান। 

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ

বুকে ব্যথা হওয়ার অন্যতম দ্বিতীয় কারণ হলো গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ। যাদের গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুকে ব্যাথা হয়ে থাকে তাদের প্রধান কারণ এটি। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হল একটি হজমের বরোগ। মুখ ও খাদ্যনালীর সংযোগস্থলকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ইসোফেগাস। 

আর যখন পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু ইসোফেগাসে ফিরে আসে তখন তাকে বলে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ। অর্থাৎ খাবার খাওয়ার পর যখন হজমে কোন সমস্যা হয় তখন আপনার এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। যাকে আমাদের চলতি ভাষায় টক ঢেকুর, চোঁয়া ঢেকুর বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সও বলি। অর্থাৎ যারা বুক ব্যাথা হলে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করেন এবং গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করার পর বুক ব্যথা কিছুটা উপশম হয়। 

পেপটিক আলসার

পেটের অন্যতম একটি সমস্যা হল পেপটিক আলসার। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন বুক ব্যথা হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো পেটের আলসার। পেপটিক আলসার হলো মানবদেহের পাচনতন্ত্রের অম্ল পরিবেশযুক্ত অংশের ক্ষতজনিত একটি রোগ। অর্থাৎ মানবদেহের হজম ক্রিয়ার মধ্যে কিছু বজ্র পদার্থ আটকে যায়। যার ফলে পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। 

আলসারের প্রধান লক্ষণ হল বুকজ্বালা, পেটের উপরের দিকে যন্ত্রণা, খাওয়ার পরে পেট ফুলে থাকা বা পেট ফেঁপে থাকা, মুখ দিয়ে নুন জল ওঠা, গা বমি ইত্যাদি। তাই আপনার যদি বুক ব্যথার সাথে এরকম লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই আলসারের চিকিৎসা নিতে হবে। 

অ্যাজমা

শ্বাসকষ্ট জনিত একটি রোগ হলো অ্যাজমা। যাকে আমাদের ভাষায় বলি হাঁপানি। শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হলে এজমা রোগ সৃষ্টি হয় । এজমা বা হাঁপানি রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও স্যাঁতস্যাতে ধুলিকনা মিশ্রিত আবহাওয়া বসবাস করা,ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা ও অতিরিক্ত ধূমপান করা।

সাধারণত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এই রোগে বেশি ভোগে।একবার যদি অ্যাজমা রোগ সৃষ্টি হলে বারবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কলকারখানার ধুলাবালি ও ধোয়াময় পরিবেশ। ঠিক তেমনিভাবে অ্যাজমা জনিত বা হাঁপানি সমস্যার কারণে আপনার বুকে ব্যাথা হতে পারে। 

ফুসফুসে সমস্যা

মানবদেহের অন্যতম প্রধান একটি অংশ হলো ফুসফুস। কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ফুসফুসের সমস্যার কারণে বুকের মাঝখানে ব্যথা হতে পারে। যখন আমাদের পাঁজর আর ফুসফুসের মধ্যে বাতাস কোন কারণে জমাট বাঁধে তখন ফুসফুসের উপর খুবই চাপ সৃষ্টি হয়। আর তখনই ফুসফুস ঠিক করে কাজ করতে পারে না, শ্বাস নিতে সমস্যা হয় আর তখনই বুকে ব্যথা হয়। অর্থাৎ ফুসফুসের মধ্যে যদি কোন কিছু জমা থাকে, তখন কিন্তু তার মধ্যে একটি চাপ সৃষ্টি হয়। যার কারণে আমাদের বুক ব্যথা শুরু হয়। 

পাঁজরে আঘাত

বুকের মাঝখানে ব্যথা হওয়ার আরেকটি কারণ হলো পাঁজরে অধিক আঘাত পাওয়া। আমাদের বিভিন্ন কাজ করার সময় অথবা কোথাও পড়ে গেলে পাঁজরে যদি ভীষণ আঘাত পায়। তাহলে সেখানে থেকে এক প্রকার ফ্র্যাকচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাঁজরের এই ফ্র্যাকচার থেকে কখনো কখনো আপনার বুকেও ব্যাথা হতে পারে। 

মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে যদি আপনার বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও গা ঘেমে যায় তাহলে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আপনি যদি অতিরিক্ত মানুষের চিন্তা করেন,তাহলে কিন্তু আপনার বুক ব্যাথা কোনভাবেই ভালো হবে না। এই কারণে অবশ্যই আপনাকে মানসিক দিকে সচেতন থাকতে হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত মানুষের চাপ নেওয়া যাবে না। 

বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয়

উপরে উল্লেখিত কারণ গুলোর মাধ্যমে সাধারণত একজন মানুষের বুকে ব্যাথা সৃষ্টি হয়। বুকে ব্যথা সৃষ্টির কারণগুলো আপনি এখন জানতে পেরেছেন। এখন আপনার দায়িত্ব হল বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে আমার করণীয় গুলো কি কি। চলুন দেখে নেই বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে আপনি কি কি দায়িত্ব পালন করবেন।

বুকে ব্যথার যদি কোন একটি কারণ আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে আপনাকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে। আর যদি বুকে ব্যথা অনেক বেশি গুরুতর হয় সেক্ষেত্রে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে আপনি কি কি চিকিৎসা নিতে পারেন তার জন্য একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

প্রথমেই আপনাকে বেছে নিতে হবে কি কারণে আপনাকে বুক ব্যাথা হচ্ছে। ধরুন আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুক ব্যাথা হয়ে থাকে,তাহলে আপনাকে অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও যে সকল খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক বেড়ে যায় সে খাবার থেকে আপনাকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

আবার যদি মনে হয় আপনার আলসারের কারণে বুক ব্যাথা হচ্ছে তাহলে অবশ্যই আপনাকে আল্টাসনো করতে হবে। পরীক্ষা করার পর আপনার যদি আল্টাসনো ধরা পড়ে, তাহলে আনসারের চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে দেখবেন বুকে ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

আবার যদি আপনার অ্যাজম জনিত সমস্যার কারণে বুক ব্যাথা হয়ে থাকে,তাহলে আপনাকে স্যাঁতস্যাতে ও নোংরা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর পাশাপাশি যে সকল এলাকায় নোংরা পরিবেশ ও কলকারখানার ধোয়া রয়েছে সে স্থানে বসবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও আপনার যেন ঘন ঘন ঠান্ডা না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

অর্থাৎ বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে আপনাকে অবশ্যই বুক ব্যথার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তারপর আপনাকে বুক ব্যথার কারণের চিকিৎসা করতে হবে। মানে আপনার কি কি কারণে বুক ব্যথা হচ্ছে তা সমাধান করতে হবে। এছাড়াও আপনি যদি নিশ্চিত হতে না পারেন, কি কারনে বুক ব্যথা হচ্ছে। তাহলে অবশ্যই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।

প্রিয় পাঠক আশাকরি আপনি এতটুকু অবধি পড়ে বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয়, ব্যথার কারণ ইত্যাদি নিয়ে জেনেছেন। তবে এবার জানবো ব্যথার ঔষধ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ঘরোয়া চিকিৎসা সহ আরও কিছু।

বুকের মাঝখানে ব্যথার ঔষধ

আপনাদের আগেই বলেছি বুকের মাঝখানে বিভিন্ন কারণে ব্যাথা হতে পারে। তাই আপনাকে অবশ্যই কি কারণে বুকে ব্যাথা হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর সেই সমস্যার কারণে ঔষধ খেতে হবে। এর মধ্যে বুক ব্যথার প্রধান কারণ গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটি সমস্যা। তাই প্রথম অবস্থায় গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে দেখতে পারেন।

এছাড়া হৃদরোগ, বা ফুসফুসের সমস্যা থেকেও বুকে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত চিন্তা, মানসিক চাপ, টেনশন, ডিপ্রেশনের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, ইনজুরির কারণ বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়। এই কারণে আপনাকে একজন রেজিস্টার প্রাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

ঠান্ডা জনিত বুকের ব্যথা

এমন অনেক মানুষ আছে যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যার কারণে বুক ব্যাথা হয়ে থাকে। ঠান্ডা জনিত বুক ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এজমা বা হাঁপানি। যাদের শরীরে অ্যাজমা বা হাঁপানি রয়েছে তাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডা লাগার কারণে মূলত বুক ব্যথা সৃষ্টি হয়।

আপনার যদি ঠান্ডা জনিত বুক ব্যাথা হয়,তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। প্রতিদিন সকালে মধু, আদা ও জলপাইয়ের তেল চা করে খাবেন। তাহলে দেখবেন আপনার যদি ঠান্ডা জড়িত বুক ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দূর হয়ে যাবে।

বুকে ব্যাথা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা

আপনার যখন কথা শুরু হবে তখন আপনার প্রধান দায়িত্ব হল কি কারণে বুক ব্যাথা হচ্ছে তা নিশ্চিত করা। সাধারণত হৃদরোগ,গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিটিক্যাল,অ্যাজমা ও ঠান্ডা জড়িত কারণে বুক ব্যথা হয়ে থাকে। এজন্য আপনাকে কোন কারণে বুক ব্যাথা হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এখন আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে বুক ব্যথা হয় তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করতে হবে। আবার যদি ঠান্ডা জনিত কারণে বুক ব্যাথা হয়,তাহলে প্রতিদিন সকালে মধু ও আদা চা করে খাবেন। এরপরেও যদি বুক ব্যথা না কমে তাহলে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

গ্যাস্ট্রিক বুকে ব্যাথা

সচরাচর আমাদের গ্যাস্ট্রিকের কারণেই বুক ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। বুকের মাঝে বা ওপর পেটে ব্যথার সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুর বা পেটে গ্যাস ইত্যাদি গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুকে ব্যথার লক্ষণ। সাধারণ অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে এটি সেরেও যায়।

গ্যাসের ব্যথা বুকের কোন পাশে হয়

বুকের মধ্যে গ্যাসের ব্যথা বা বুকের কোন অঞ্চলে একটি সাধারণ টান লাগার মতো অনুভব হতে পারে। অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে থাকতে পারে ঢেকুর তোলা, বদহজম, অতিরিক্ত গ্যাস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বের হওয়া, ব্যথা অনুভব হওয়া, ক্ষুধামন্দ্যা, পেট ফোলা, ব্যথা যা পেটের বিভিন্ন অংশে স্থানান্তর করে।

হার্টের ব্যথা বুকের কোন পাশে হয়

বুকের মাঝখানে ব্যথা হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো হার্টের সমস্যা। হার্টের সমস্যার কারণে সাধারণত আমাদের অনেকের বুকের ব্যাথা অনুভব হয়। হার্টের ব্যথা বুকের ঠিক মাঝখানে হয়। বুকের বাঁদিকেও মোচড় দিয়ে ব্যথা হতে পারে। হার্টে মূলত হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।

মেয়েদের বুক ব্যথা কেন হয়

সাধারণত ছেলেদের তুলনায় বর্তমান সময়ে মেয়েদের বুকে ব্যাথা বেশি হয়। মেয়েদের বুকে ব্যথা হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে এর মধ্যে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, অ্যাজমা বা হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও ঠান্ডা জনিত সমস্যার কারণে। এছাড়াও পিরিয়ড ও গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্যাটা তাদের বেশি দেখা দেয়।

হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণ

আমাদের কখনো কখনো হঠাৎ করে বুকে ব্যথা সৃষ্টি হয়। হঠাৎ করে বুকে ব্যথার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও মানসিক। এছাড়াও অনেকে মনে করে পেটে গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার জন্য বুকে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু পেটে গ্যাস হওয়া বা হৃদরোগের সমস্যা ছাড়াও আরো অনেক কারণে বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

হঠাৎ করে আপনার বুকে যদি ব্যথা অনুভব হয় তাহলে অবশ্যই প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে আপনার যদি গ্যাস্টিকের জন্য হঠাৎ করে বুকে ব্যথার সৃষ্টি হয় তাহলে আপনি আদা,মেথি ও মধু খেতে পারেন। এই কয়টি উপাদান আপনার গ্যাস্টিক দূর করে দেবে। এছাড়াও আপনার বুক ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করবে।

শ্বাস নিতে বুকে ব্যথা

সাধারণত যে সকল ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ও অ্যাজমা জাতীয় রোগ থাকে তাদের শ্বাস নিতে গেলে বুকে ব্যথা হয়। আবার যাদের প্রচন্ড গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ও শ্বাস নিতে বুকে ব্যাথা হতে পারে। শ্বাস নিতে আপনার যদি বুকে ব্যথা অনুভব হয় তাহলে কিন্তু এ বিষয়টি এড়িয়ে গেলে চলবে না।

কারণ এমন অনেক ব্যক্তির শ্বাস নিতে গিয়ে বুকে ব্যথার কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। এ কারণে আপনারও যদি শ্বাস নিতে গিয়ে বুকে ব্যথা হয় তাহলে এটা নিরাময় করতে হবে। যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে বুকে ব্যথা হয় তাহলে আপনাকে এসিডিটির ওষুধ সেবন করতে হবে।

এসিডিটির ওষুধ সেবন করার পর আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তখন দেখবেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের কারণে যে শ্বাস নিতে বুক ব্যাথা ছিল তা কমে গেছে। এছাড়াও যদি হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগের কারণে শ্বাস নিতে গিয়ে বুকে ব্যথা হয়,তাহলে আপনি মধু আদা ও গরম পানি খেতে পারেন।

এই কয়েকটি উপাদান আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের নিঃশ্বাস প্রসারন বৃদ্ধি করে দেবে। তাহলে আপনার শ্বাস নিতে কোন সমস্যা হবে না। আবার অতিরিক্ত মানসিক চিন্তার ফলে যদি দ্রুত বুক ব্যথা হয়, তাহলে আপনাকে মানসিকভাবে শান্তি লাভ করতে হবে।

খাবার খাওয়ার পর বুকে ব্যথা

আমাদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যাদের খাবার পরেই বুক ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া করতে শুরু করে। এর মূল কারণ হলো অ্যাসিড রিফ্লাক্স। সাধারণত পাকস্থলীতে উপস্থিত অ্যাসিড খাদ্যনালী বা গলার দিকে চলে গেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হয় সৃষ্টি হয়।

আমাদের দেশে প্রতি ১০০ জন ব্যক্তির মধ্যে প্রায় পাঁচ জনের এই সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে খাবার চিবিয়ে খেতে হবে। গ্যাস্ট্রিক জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত আদার রস খেলে গ্যাস্টিক থেকে কিছুটা উপশম পাবেন। আবার এর পাশাপাশি গ্যাস্টিকের ঔষধ সেবন করতে ভালো ফলাফল পাবেন।

কাশি দিলে বুকে ব্যথা

আমাদের মাঝে এমন অনেকে আছে যারা কাশি দিলে বুকে ব্যাথা অনুভব করে। কাশি দিলে বুকে ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা। এজন্য আপনার বুক থেকে কফ বের করতে হবে। তাই নিয়ম করে আপনাকে মধু ও আদা চা করে খেতে হবে। তাহলে দেখবেন কাশি জনিত বুক ব্যথা অল্পদিনেই সেরে যাবে।

বুকে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

আপনি যদি কখনো বুক ব্যথা অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই প্রথমে ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করবেন। বুক ব্যথার জন্য ঘরোয়া উপায় গুলো অনেক বেশি কার্যকরী। যখনই বুক ব্যথা শুরু হবে তখন গরম পানি,এক চা চামচ মধু ও এক চা চামচ আদার রস মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন একটু হলেও বুক ব্যথা উপশম হবে। এছাড়াও এলোভেরা জেল,অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও তুলসী পাতা বুক ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে।

শেষ কথাঃ এই ছিল আজকে বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় ও বুকের মাঝখানে ব্যথা হওয়ার কারন, প্রতিরোধ ও প্রতিকার ইত্যাদি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। বুক ব্যথা জটিল একটি হৃদরোগ। তাই আপনার বুক ব্যাথা শুরু হলে অবশ্যই তার চিকিৎসা করতে হবে।

তবে প্রাথমিক অবস্থায় আপনি বুক ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। তারপরেও যদি আপনার বুক ব্যাথা উপশম না হয়। তাহলে একজন রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। আজকের আর্টিকেল কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাবেন।

Back to top button