আন্তর্জাতিক

নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ এবং যাওয়ার পদ্ধতি

আপনি যদি নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ সম্পর্কে জানতে চান তবে সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি নেদারল্যান্ড স্কলারশিপ সম্পর্কে ও জানতে পারবেন।

নেদারল্যান্ড এর মতো একটি উন্নত রাষ্ট্রে পড়াশোনা করা এখন শুধু স্বপ্ন আর নয় বাস্তবে রুপ দিতে পারবেন সহজেই। এই পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশাকরি আপনি সম্পূর্ণ রুপে বুঝতে পারবেন। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষা।

বর্তমানে বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেড়েছে। যার ফলে ইউরোপ আমেরিকার নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা,খরচ, সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী দেশ পছন্দ করতে অনেকেরই বেগ পেতে হয়। তবে পছন্দের দেশ গুলোর মধ্যে সামনের দিকেই আছে নেদারল্যান্ডস এর নাম।আজ আলোচনা করব নেদারল্যান্ডস এর স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে।

নেদারল্যান্ডস যাওয়ার খরচ স্টুডেন্ট ভিসা

নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ জানার সাথে সেখানে যাওয়ার সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। নেদারল্যান্ডস ইংরেজি ভাষি একটি দেশ। এখানে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। এখানে শিক্ষার মান ভালো। এখানে টিউশন ফী ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।

নেদারল্যান্ডস এর সার্টিফিকেটের মান ভালো। তাই আপনি সেখান থেকে পড়াশোনা করে অন্য কোন দেশে চাইলে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। নেদারল্যান্ডস এর টাকার ব্যয় কম।

Read More:   বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে ২০২২

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যে এখানে শিক্ষা ব্যয় হতে পারে বছরে ৬০০০-২০০০০ ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্যে আরো কম। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে। এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা একেক রকম হয়ে থাকে।

কিভাবে যাবেন

পূর্বের অনুচ্ছেদে আপনি নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ সম্পর্কে জেনেছেন এবার জানবেন কিভাবে যাবেন।  প্রথমেই বলে রাখি বাইরে যেকোন দেশে পড়তে গেলেই প্রথমত আপনার ইংরেজির উপর ভালো দক্ষতা থাকা চাই। এর পরবর্তী রিকোয়ারমেন্ট আসে সে দেশের নিজস্ব ভাষা জানা। আপনাকে আইএলটিএস পরীক্ষা দিয়ে নূন্যতম স্কোর করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চাহিদা থাকে।

আপনি যখন স্কলারশিপ বা ভর্তির জন্যে এপ্লাই করবেন তখন দেখে নিবেন আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কর স্কোর চাচ্ছে। এবং সে অনুযায়ী এপ্লাই করবেন। তেমনি নেদারল্যান্ডস এর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও একি নিয়ম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যতটি রিকমেন্ডেশন লেটার চাইবে সে অনুযায়ী তা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কত সিজিপিএ হলে আপনার আবেদন গ্রহণ করবে তা জেনে নিতে হবে।

সাধারণত ভালো সিজিপিএ প্রাপ্তদের সুযোগ বেশি থাকে তবে কম সিজিপিএ দিয়ে পড়তে যাওয়ার নজিরও কম নয়। তাই যাদের অনার্সের রেজাল্ট এতটা আহামরি কিছু নয় তারাও হতাশ হওয়ার দরকার নেই। তবে সিজিপএ এর এই অভাব আপনি টোফেল,আইইএলটিএস পরীক্ষায় ভালো স্কোর করার মাধ্যমে পূরণ করতে পারবেন।

নেদারল্যান্ডস পড়তে যাওয়ার সুযোগ আরো একটু প্রশস্ত।  কারণ এখানে আপনি আপনার পছন্দের প্রোগ্রামে ভর্তির শর্ত পূরণ করতে না পারলে তারা আপনাকে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যে ১ বছর সময় দিয়ে একটি লেটার দিবে। যার মাধ্যমে ১ বছরের কোর্স পূরণ করে প্রস্তুতি নিয়ে আপনি যেতে পারেন অথবা প্রস্তুতি চলাকালীন এম্বেসির থেকে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন। এর পর পরীক্ষায় পাশ করলেই আপনি ভর্তির জন্যে যোগ্য বিবেচ্য হবেন।

Read More:   বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে ২০২২

এছাড়া আপনি যদি ভর্তির অনুমতি পান তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফান্ড ব্যাংক একাউন্ট এ দেখিয়ে ডাচ এম্বেসির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আগে আপনাকে ভর্তি হয়ে নিতে হবে। মাস্টার্স, আন্ডারগ্রেজুয়েট প্রোগ্রামে একিই নিয়ম কিন্তু পিএইচডি প্রোগ্রামে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

যেমন আপনি এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও প্রফেসরদের মাধ্যমে স্কলারশিপ পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার ভালো কোন জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশিত থাকতে হবে। গবেষণা গুলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হয় বলে এ ব্যাপারে আপনার প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। তাহলে আপনি যোগ্য বলে প্রফেসরের কাছে বিবেচিত হবেন।

স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হলে

নেদারল্যান্ডস এ থাকার আবেদন করতে হলে আপনাকে অন্তত পাঁচ বছর বাস করতে হবে সেখানে। শিক্ষার্থী ভিসায় যদি ৫ বছর থাকেন তবে তা আড়াই বছর হিসেবে ধরা হবে। অন্যদিকে, ৫ বছর অবস্থানকালে আপনি যদি ৬ মাস, এবং ৩ বছর অবস্থান কালে ৪ মাস নেদারল্যান্ডস থেকে বাইরে অবস্থান করেন তাহলে আবেদনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। যদি নাগরিকত্ব আবেদন করতে চান তাহলে আপনাকে অবস্থান করতে হবে ৮ বছর। নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ সহ স্থায়ী ভাবে বসাবাস করতে গেলে কেমন ব্যায় হবে তা ও জেনে রাখা জরুরী।

Read More:   বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে ২০২২

কাজের সুবিধা

নেদারল্যান্ডস এ পার্ট টাইম খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। রেস্টুরেন্টে কাজ মিলে বেশিরভাগ। সেক্ষেত্রে ডাচ ভাষা জানতে হয়৷ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে সপ্তাহ ভিত্তিক ১৬ ঘন্টা কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে কাজ করে জীবিকা ও পড়াশোনা চালানো বেশ কষ্টকর হয়।আবার‍ যদি কাজ করতে গিয়ে ছাত্রত্ব হারান তাহলে আপনি আর সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।

পড়াশোনার পর কাজের সুবিধা

পড়াশোনা শেষ করার পর ডাচ সরকার আপনাকে ১ বছর অবস্থানের অনুমতি দিবে কাজ খোঁজার জন্যে। এ সময়ের মধ্যে আপনাকে একটি অফিস জব খুঁজে নিতে হবে।   এসকল দেশ প্রযুক্তি নির্ভর, তাই আপনার পড়াশোনার বিষয়টি আইটি হলে বা প্রকৌশল হলে ভাষা জানা না থাকলেও আপনি কাজের ভালো সুবিধা পাবেন।

অন্যান্য সাবজেক্ট নিয়ে যারা পড়বেন তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন একটি ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিতে পড়াশোনা থাকা অবস্থায়। তাইলে তা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস এর ভাষা ও সংস্কৃতি জানা থাকলে সুবিধা পাবেন।

পরিশেষে

বাইরের দেশে পড়তে যাওয়ার মূল শর্তগুলো প্রায় একি।তেমনি নেদারল্যান্ডস এরও। তাই এখানে পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে তাদের ভাষা সংস্কৃতি জানা জরুরি এছাড়া রিসার্চ পেপার তৈরি ও ভালো সিজিপিএ এর দিকে খেয়াল রাখুন।

আশাকরি নেদারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা খরচ সম্পর্কে আপনি ভালো ভাবে জেনেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button