প্রশ্নোত্তর

কোন কোন দোয়া পড়লে মনের আশা কবুল হয়

কোন কোন দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়ঃ আমরা সকলে চাই মহান আল্লাহতালা যেন আমাদের দোয়া কবুল করে। কারণ মনের আশা পূরণ করার ইচ্ছা সবার রয়েছে। তাই আমরা সবাই মনের আশা পূরণ করার জন্য বিভিন্ন রকমের আমল করলে থাকি। তবে মনের আশা পূরণ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে কার্যকরী কিছু আমল করতে হবে।

মহান আল্লাহ তা’আলা যে আমল গুলোর মাধ্যমে আপনার দোয়া কবুল করতে পারে। সেই আমলগুলো আপনাকে বেশি বেশি করে করতে হবে। তাই আপনাদের সামনে আসতে কোন কোন দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয় ও কোন আমল করলে মনের আশা পূরণ হয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি, আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

মনের আশা পূরণের দোয়া

মনের আশা পূরণ করার জন্য আমাদের ইসলামে অনেক রকমের আমল রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ও কার্যকরী একটি আমল হল ইসমে আজম। ইসমে আজম হলো আল্লাহ তাআলার মহান গুনবাচক নাম। এ ‘ইসমে আজম’র আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলে মহান আল্লাহ তাআলা তা পূরণ করেন।

ইসমে আজমের দোয়াটি নিম্নরুপঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা-ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্, ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়্যুম।

বাংলায় অনুবাদঃ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তুমিই তো সব প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি দয়াশীল। তুমিই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা! হে মহান সম্রাট ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। 

অর্থাৎ ইসমে আমলের মাধ্যমে আপনার মনের আশা পূরণ করে দেবে মহান আল্লাহতালা। এ মহান নামের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করলে ও আল্লাহর কে ডাকলে তিনি বান্দার সে ডাকে সাড়া দেন। এ সম্পর্কে প্রিয় নবি মুহাম্মদ (স) থেকে হাদিসের অনেক বর্ণনা রয়েছে।

এখন অনেকে প্রশ্ন করবে ইসমে আজম বিষয়টা আসলে কি। অর্থাৎ এই দোয়াটি কিভাবে করতে হয়। এই দোয়া কোন হাদিস থেকে এসেছে। ইসমে আজম দোয়ার উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ ইত্যাদি। চলুন এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নেই।

ইসমে আজমের ঘটনা

ইসমে আজমকে আল্লাহর মহান নাম বলা হয়ে থাকে। মুসলমানদের নিকট ইসমে আজম হচ্ছে আল্লাহর এক বিশেষ নাম এবং এক বিশেষ দোয়া।ইসমে আজম সহকারে আল্লাহর নিকট দোয়া করলে অবশ্যই আল্লাহ্‌ এই দোয়া কবুল করে থাকেন। অর্থাৎ মনের আশা পূরণ করার অন্যতম একটি দোয়া হলো ইসমে আজম।

আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, একদিন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) নামাজের পর দোয়ারত জায়েদ ইবনে সাবিতের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। দোয়াতে তিনি বলছিলেন:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা-ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্, ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়্যুম।

তখন মুহাম্মাদ (সাঃ) বললেন, তুমি জানো, তুমি কি দিয়ে দোয়া করেছ। তুমি দোয়া করেছ ইসমে আজম দিয়ে, যা দ্বারা দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং তা দ্বারা কিছু চাইলে আল্লাহ তা প্রদান করেন।

এছাড়াও মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসমে আজম দিয়ে দোয়া করে তার দোয়া আল্লাহ্‌ কবুল করেন। তাহলে বলা যেতে পারে মনের আশা পূরণের দোয়া হলো ইসমে আজম।

পরিশেষে কিছু কথা 

কোন কোন দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয় এটা নিয়ে এই ছিল আমাদের সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনা। আমাদের মনের আশা পূরণ করার ইচ্ছার সবার রয়েছে। কিন্তু আমরা সঠিক কোন আমল জানি না মনের আশা পূরণ করা। তাই আপনাদের সামনে আজকে হাদিস থেকে বর্ণনা করলাম কিভাবে আপনার মনের দোয়া কবুল হতে পারে। মনের দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম একটি আমল হলো ইসমে আজম।

এই কারণে আপনি নিয়মিত নামাজ শেষ করার পর এই দোয়াটি পড়বেন। এছাড়াও ইসমে আজম দোয়াটি কখন পড়লে ভালো হয় তা জানার জন্য অবশ্যই মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলবেন।

Back to top button